প্রাচীন পটভূমিতে যাত্রাপথ ও সমাজজীবন নিয়ে দীর্ঘ উপন্যাস
যে সেলাই খোলে
কু উজি · AI-সৃষ্ট রচনা · 8350 অক্ষর · প্রায় 9 মিনিট
নানথাং আঝাওয়ের ধারণার চেয়েও পুরোনো। দরজার বাইরে দুটো ধূসর কাঠের পাল্লা, একটায় নাটকের বিজ্ঞপ্তি সাঁটা, অন্যটা লোকের পায়ের লাথিতে চকচকে। উঠানে কেউ গাইছে না। শুধু বাঁশে শুকোতে দেওয়া পোশাকের হাতাগুলো একসঙ্গে উলটে দড়ির ধার ছুঁয়ে যাচ্ছে, যেন একদল খালি পায়ের মানুষ মাথার ওপর দিয়ে তাড়াহুড়ো করে পথ চলছে। সে বাতি কোলে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে জল নিয়ে বেরিয়ে আসা মেয়েটিকে আগে পোশাকের কাজের কথা জিজ্ঞেস করল।
মেয়েটি আঝাওয়ের পায়ের কাছে বাঁশের বাক্সটা দেখে সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে ডাকল না, উল্টো জিজ্ঞেস করল কে পাঠিয়েছে। আঝাও বলল, তার নৌকায় ওঠা এক ছিন-বাদ্য মেরামতের কারিগর বলেছিলেন ছুনহে দলে লোকের অভাব। তাই সে খোঁজ নিতে এসেছে। মেয়েটি বলল আগে ছিন গিন্নির সঙ্গে দেখা করতে, আর শুধু নিত্যদিনের পোশাক বদলাতে জানলে এখানে কাজে লাগবে কি না বলা যায় না। আঝাও ছিন গিন্নির নাম জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল, এমন সময় ভেতর থেকে ডাক এল, গাও মান, সব জল পথে ফেলে রেখে এসো না। মেয়েটি সাড়া দিয়ে পাশে সরে দরজার অর্ধেকটা ছেড়ে দিল।
নাটকের দলটা দুদিনের জলপথ দূরের ছোট শহরে। আ চাও বাতি আর বাঁশের বাক্স নিয়ে সেখানে গিয়ে চিন শিয়াওমানকে পেল, তখন সে নাটকের পোশাকের সেলাই খুলছিল। মহিলার বয়স আ চাওয়ের ধারণার চেয়ে কম। হাতের কাছে ছেলের জন্য সেলাই-করা এক জোড়া জুতো। মায়ের নাম শুনে সে কাঁদল না, এতদিন পরে কেন এসেছ, তাও জিজ্ঞেস করল না।

সে শুধু মুখ তুলে প্রথমে বাতির মোড়কের কাগজে, তারপর আঝাওয়ের দিকে তাকিয়ে বলল, “তিনি কি এখনও আমার জন্য সেই বিয়ের সম্বন্ধটা ধরে রেখেছেন?”
আ ঝাও এই কথাটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ভেবেছিল, আগে হে হুয়াইঝৌয়ের কথা বলবে, তারপর বাতিটা কোথা থেকে এসেছে, শেষে ছিন দিদিমার কথাটা পৌঁছে দেবে। এখন যে ব্যাপারটা সে সবচেয়ে কম জানে, সেটাই আগে জিজ্ঞেস করা হল। তাকে বলতে হল, জিজ্ঞেস করিনি। ছিন শিয়াওমান একবার হেসে উঠল, ভালোও বলল না, মন্দও বলল না। মাথা নিচু করে সুচের ডগা দিয়ে বগলের নিচের এক টুকরো সেলাই তুলতে লাগল। সুতোটা যেন কাপড়ের মধ্যে ঢুকে বসে আছে। দুবার খুঁচিয়ে তবেই আঙুলে ধরার মতো একটা ছোট মাথা পেল।
আঝাও বাতিটা দরজার পাশের শুকনো তক্তায় রাখল, বাঁশের বাক্সটা কিন্তু হাতেই রইল। সে জানত শিয়াওমান তার চেয়ে মাত্র বারো বছরের বড়। তবু সামনে থেকে দেখে বুঝল, পথজুড়ে তার মনে ছিল লিউওয়ানের সেই নিচু গলায় বলা কথাগুলোই, যেন মেয়ে একবার বাড়ি ছাড়লে সেদিনের ঝগড়ার চেহারা নিয়েই চিরকাল হেঁটে যাবে। সামনে দাঁড়ানো মহিলার চুলের ধারে ঘাম, হাতা গোটানো, কিন্তু ঠোঁটের কোণ সব সময় নিচের দিকে নেমে নেই। হাতের কাছে এক কান-ভাঙা ছোট্ট মাটির কুকুরও রাখা।
“কারিগর হো কী করে তোমাকে পাঠালেন?” শিয়াওমান জিজ্ঞেস করল।
আঝাও বলল, বাবা গত শীতে অসুখে মারা গেছেন। হিসাব মেলাতে গিয়ে এই বাতির কথা দেখে সে বাতির দোকানে গিয়েছিল। শিয়াওমানের হাতে সদ্য তুলে আনা সুতোটাও ছিঁড়ে গেল। সে এক নিশ্বাস থেমে জিজ্ঞেস করল, নববর্ষের ঠিক আগে? আঝাও মাথা নাড়ল। শিয়াওমান সুচ নামিয়ে বলল, আগে সে প্রায়ই তাঁর খেয়ায় চড়ত। গানের পুঁথি বুকে করে বসে থাকতে দেখলেই তিনি জিজ্ঞেস করতেন, বইটা উলটো করে ধরেছিস নাকি? প্রতিবারই তাকে বই ঘুরিয়ে দেখাতে হতো। বলে সে যেন আঝাওয়ের হাসির অপেক্ষা করল। আঝাওয়ের শুধু মনে হলো, তখন বাবা এখনও তরুণ, আর শিয়াওমানের মনে আছে এমন কিছু কথা তার নিজেরই জানা নেই।
উঠানে হঠাৎ কেউ টেনে লম্বা করে আর্তনাদ করল। আঝাও চমকে ফিরে তাকাল, ছিন শিয়াওমান শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাইরের লোকদের একটু আস্তে করতে বলল। দিনের আসর ভরার আগেই চেঁচিয়ে গলা বসিয়ে ফেলো না। আসলে এক পুরুষ অভিনেতা মাটিতে পড়ার মহড়া দিচ্ছিল, অন্যরা হাসছিল যে সে মাছের ঝুড়ি নামানোর মতো করে পড়ে। লোকটা হার মানল না, আবার একটা খালি গামলা ধাক্কা দিয়ে ফেলল। এমন শব্দ হলো যে টেবিলের ছোট মাটির কুকুরটাও কেঁপে উঠল। শিয়াওমান সেটাকে ভেতরের দিকে সরিয়ে দিল, যেন এই মুহূর্তে সেটাই দেখার সবচেয়ে জরুরি কাজ।
আ ঝাও জিজ্ঞেস করল, সে কি অসময়ে এসেছে। শিয়াও মান বলল, কোনো সময়ই সুবিধের নয়, বসো। কাজ ফুরোনোর অপেক্ষায় থাকলে এক বছরেও দুটো কথা বলা হবে না। সে পাশের খাটো বেঞ্চটা দেখাচ্ছিল। বেঞ্চের ওপর খুলে রাখা ফিতের স্তূপ, আ ঝাও আগে সেগুলো বাঁশের থালায় গুছিয়ে রাখল। শিয়াও মান বাধা দিল না। সে বসার পরেই জিজ্ঞেস করল, বাতিটা ফেরত নিয়ে যাবে, নাকি তার হাতে লিউওয়ানে পাঠাবে।
“আমি ফেরত নিয়ে যাব।” আ ঝাও বলল, “পোশাক বানানোর কাজ আছে কি না, সেটাও জানতে এসেছি।”
সে ভেবেছিল, আগে পুরোনো কথা তুলে পরে কাজ চাইলে মনে হবে সম্পর্কের সুযোগ নিচ্ছে। এখন মুখ ফুটে বলার পর কথাটা যতটা কানে খারাপ লাগবে ভেবেছিল, ততটা লাগল না। শিয়াওমান চোখ তুলে আবার তাকে দেখে জিজ্ঞেস করল, রোজ কী কাজ করে। আঝাও বলল, স্কার্ট, আস্তর-দেওয়া জামা আর বাচ্চাদের পায়জামা বদলে দেয়, মা শিখিয়েছেন। নিজে খেয়াও চালায়। শিয়াওমান বলল, তাহলে হাতে জোর থাকার কথা। আবার জিজ্ঞেস করল, সেলাই খুলতে পারে? আঝাও বলল, পারে। শিয়াওমান তখন সুচের নলটা তার দিকে ঠেলে দিয়ে নিজে জুতোটা তুলে নিল, শক্ত হয়ে আসা আঙুলগুলোও এই ফাঁকে অন্যভাবে চালানো যাবে।
কাপড়ের ওপর সুতোর ওই অংশটা সরু হয়ে প্রায় সাদা দেখাচ্ছিল। আঝাও একটা গিঁট দেখে প্রায় কাঁচি দিয়ে মাঝখান থেকে কেটে ফেলতে যাচ্ছিল। তারপর মনে পড়ল, পোশাকটা কতখানি বদলাতে হবে এখনও জানে না। তাই পুরোনো সেলাই ধরে ধরে সুতো তুলতে লাগল। শিয়াওমান দেখছিল, ঠিক হচ্ছে বলল না। শুধু একটা তালি দেখিয়ে বলল, ওদিকে হাত দিয়ো না, মঞ্চের আলো পড়লেই ভেতরটা দেখা যাবে। আঝাও ‘হুঁ’ বলে নিজের বাক্সটা পায়ের কাছে সরিয়ে রাখল। যে কোনো সময় চলে যাবে এমন করে আর হাতে ঝুলিয়ে রাখল না।
ভেতরের ঘর থেকে এক ছেলে গলে বেরিয়ে এল। আগে পুরোনো বাতিটা দেখল, তারপর আ চাওকে। বয়স আটের মতো। ঘুমে চুলের আধখানা এলোমেলো, বুকে ছোট এক টুকরো বাঁশ। ছিদ্রগুলোও ঠিকঠাক হয়নি, তবু আড়াআড়ি মুখে ধরে ফুঁ দেবে। শিয়াওমান আগে মুখ মুছতে বলল। মুখে সায় দিলেও ছেলের হাত গিয়ে পড়ল শিমের পিঠার পুঁটলিতে। আ চাও পুঁটলিটা তার হাতে দিয়ে বলল, পথে এক কোণ ভিজেছে, একটা এখনও ভালো আছে। একটা ভালো আছে শুনে ছেলেটা সেটাই আগে বেছে ভাঙল, আর তার অর্ধেক মাকে দিল।
“আশেং।” শিয়াওমান তাকে ডাকল, “জিনিসটা নিয়ে ফেলার পর জিজ্ঞেস করার কথা মনে পড়লে চলবে না।”
তখনই ছেলেটা মাথা তুলে ধন্যবাদ দিল। তারপর জিজ্ঞেস করল, এই দিদি কি বাতি বেচে যে বাড়িটা, সেখানে থাকে? আঝাও জবাব দেওয়ার আগেই শিয়াওমান বলল, তা নয়, ও খেয়াঘাটের। আশেং ‘ও’ বলল, যেন দুটো জায়গা অনেক দূরে। তারপর জানতে চাইল, ওই বাড়ির বাতি সত্যিই জলে ভাসে কি না। শিয়াওমান বলল, তুই যেগুলো দেখেছিস সেগুলো ইউয়ানশিয়াও উৎসবে ভাসানো হয়। দোকানের সব বাতি তো জলে ফেলে দেওয়া হয় না। শুনে আঝাও বুঝল, ছেলেটা জানে দিদিমা বাতি বিক্রি করেন, কিন্তু সেই কাউন্টারটা কখনো দেখেনি।
ছেলেটা চলে গেলে শিয়াওমান বলল, তার স্বামী দলের ঢুলি ছিল, পদবি লু, গত বছরের আগের বছর অসুখে মারা গেছে। কথাটা সহজ স্বরে বলল, অথচ হাতের পিঠাটা না খেয়ে কাগজে নামিয়ে রাখল। আ চাও বুঝল না কী বলবে। আগে জুতোর ধারে আটকে থাকা এক টুকরো পুরোনো সুতো কেটে দিল। শিয়াওমান দেখে জুতোটা তার হাতে দিয়ে বলল, এখানকার সেলাই একটু টেনে আঁট করে দাও। ছেলের পা তাড়াতাড়ি বাড়ে। আগের জোড়াটা বছরের শেষ পর্যন্ত পরার আগেই তলা খুলে ফেলেছিল।
আঝাও ভেবেছিল শিয়াওমান এখন থেকে শুধু পোশাকের সিন্দুকই সামলায়। শিয়াওমান বলল, সন্ধ্যায় এখনও একটা অঙ্কে পার্শ্বচরিত্রের গান গাইতে হবে, পোশাকের কাজটা দিনের আলোতেই সেরে নিতে হয়। লিউওয়ানের লোক যেমন ভাবে, গাইলেই কেউ বখশিশ দেয়, অভিনয় তেমন নয়। শোনার লোক না থাকলেও অভ্যাস করতে হয়। আর তার মা যেমন ভেবেছিল, নাটকের নৌকায় উঠে চলে গেলেই বাড়ির কষ্ট থেকে চিরতরে রেহাই, তেমন তো আরও নয়। এতদূর বলে সে হঠাৎ হেসে জিজ্ঞেস করল, এখন এসব কথা তার মুখে শুনে তাকে কি সেই সময়ের মায়ের মতো লাগছে?
আ ঝাও ‘মেলে’ বলতে সাহস পেল না, মিথ্যেও বলতে চাইল না। শুধু বলল, সেই সময়ের মানুষটিকে সে দেখেনি। শিয়াওমান একবার তার দিকে তাকাল, হাসিটা বরং একটু খাঁটি হল। বলল, এত সাবধান হতে হবে না, একটা কথা শুনতে খারাপ লাগলেই কাউকে ঘর থেকে বার করে দেওয়ার মতো সে নয়। তবু আ ঝাও শুনল, শেষ কয়েকটা শব্দ সে শক্ত করে বলেছে, যেন নিজের বলা ‘দেব না’ কথাটাও পুরোপুরি বিশ্বাস করে না।
পরে শিয়াওমান জানতে চাইল, ছিন দিদিমা আর কিছু বলেছিলেন কি না। আ ঝাও হুবহু জানাল, প্রতি বছর শাংসি উৎসবে বাতিটা ধার নিয়ে জানালার পাশে কিছুক্ষণ জ্বালানোর কথা, আর ফিরে এসে খেয়ে যাওয়ার কথা। বুড়ির হয়ে ‘সব সময় অপেক্ষায় থাকেন’ কথাটা যোগ করল না। শিয়াওমান জুতোটা চেপে ধরে জিজ্ঞেস করল, মা কি বলেছিলেন আগের কথা তুলবেন না। আ ঝাও মাথা নাড়তেই সে জুতোটা টেবিলে রেখে বলল, বাইরে থাকতে সেও দুবার খবর পাঠিয়েছিল। প্রথমবার এক নৌযাত্রীর হাতে, দ্বিতীয়বার দলের সঙ্গে চলা এক স্বদেশির হাতে। কোনোটারই আর জবাব আসেনি।
“হয়তো পথে কথাটা পৌঁছয়নি।” আঝাও বলল।
শিয়াওমান চোখ তুলল। আঝাওয়ের তৎক্ষণাৎ মনে হলো, কথাটা বলে সে বড্ড সহজে দায় সেরেছে, যেন পথের ঘাড়ে একবার দোষ চাপালেই মা-মেয়ের আর কিছু ভাবতে হবে না। তাই সে স্বীকার করল, সে জানে না, এমনকি সেই বিয়ের কথাটাও এখনও জিজ্ঞেস করেনি। শিয়াওমান আর চাপ দিল না, শুধু বলল বাতিটা আবার জানালার কাছে তুলে ধরো না। এখানে লোকের মহড়া চলে, ধাক্কা লাগবে। একটু পরে পোশাকের সিন্দুকের ওদিকে রাখলেই হবে।
আশেং আবার ফিরে এল। এবার মুখ ধুয়েছে, তবে কেবল অর্ধেক। সে মাকে বাঁশের টুকরোটা দেখাতে চাইল, বলল কাল কাউকে দিয়ে আরও একটা ফুটো করাবে। শিয়াওমান বলল, আগে লেখাটা শেষ করো। ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে ছিন দিদিমার কথা তুলে ঠেকাল, জানতে চাইল, বাতি বিক্রি করা দিদিমাও কি অক্ষর চেনেন। শিয়াওমান একটু থমকে বলল, তোমার চেয়ে বেশি চেনেন। শুনে ছেলেটাকে সন্তুষ্টই মনে হলো। বাঁশটা বুকে নিয়ে চলে গেল। একটু আগে সে কার হাত জুতোর ওপর থামিয়ে দিয়েছিল, তা সে জানলও না।
দুপুরের পর কাও মান দু-থান কাপড় এনে দিল। আচাওয়ের জন্য নয়, পরের দফার নতুন পোশাকের সবার কাজে লাগবে। সে ছোট কাঠের ফলকে ভাঁজের সংখ্যা লিখে শিয়াওমানকে বলল, ফেরত আসা কাপড় আর ফেলে দেওয়ার কিনারা যেন আবার এক স্তূপে না মেশায়। শিয়াওমান বলল, সে জানে। তবু কাও মান একটা জায়গা দেখিয়ে, তার সম্মতি শোনার পরই গেল। আচাও হাত বাড়িয়ে কাপড় ছুঁল, একটু আগে নৌকায় ছুঁতে না-পারার সেই ইচ্ছেটা আবার জাগল। শিয়াওমান তাকিয়ে আছে দেখে তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নিল।
“ছুঁতে চাইলে ছোঁও।” শিয়াওমান বলল, “তবে দেখামাত্রই কাপড় ভালো বোলো না। এর মধ্যে এক থান এত পুরোনো যে মচমচে হয়ে গেছে। আগে খুলে পরীক্ষা করতে হবে।”
আঝাও বুঝল, এটা কাজের কথা, নিছক সৌজন্য নয়। শিয়াওমান একটা পুরোনো ধূসর-নীল পোশাক বের করে বলল, কাল সকালে আগে ছোট্ট একটা জায়গা বদলে দিও, কয়েকটা সেলাই আর ফিতে দেখে তারপর পরের কথা হবে। আঝাও জিজ্ঞেস করল, আজই শুরু করা যাবে কি না। শিয়াওমান বাইরে তির্যক হয়ে আসা আলো দেখে বলল, আজ আগে থাকার জায়গা খুঁজে পেট ভরে খাও। এসেই রাত জাগতে বসলে তিন দিন পরে ক্লান্তিতে আবার মুখ দিয়ে ঠিকমতো কথাও বেরোবে না।
কথাটা বলেই সে নিজে না-খাওয়া আধখানা পিঠে সরিয়ে রেখে আধখোলা নাটকের পোশাকটা আবার তুলে নিল। আ ঝাও দেখে কথার সঙ্গে কাজের এই তফাতটা ধরিয়ে দিল না। একটু আগে তুলে আনা পুরোনো সুতোর টুকরোটা কাগজে জড়িয়ে রাখল, যাতে টেবিলে ছড়িয়ে না থাকে। পাশের ঘরে ছেলেটা একটা অক্ষর ভুল বলল, মা মুখে শুধরে দিল। তার হাতের সুচ কিন্তু থামল না।
আঝাও নানথাং ছাড়ার সময় বাতিটা পোশাকের বাক্সের পাশে রেখে শুধু বাঁশের বাক্সটা নিয়ে সরাইয়ে গেল। ছিন বুড়ি যার অপেক্ষায় আছেন, তার জবাব আসবেই এমনভাবে কথাটা বলেনি। ছোট একটা বদল পরখ করার সুযোগকেও দলে পা জমিয়ে ফেলা বলে ধরেনি। কাউন্টারের পেছন থেকে সরাইওয়ালা একটা শোবার তক্তা দেখিয়ে দিলেন। এবার সে আগে জিজ্ঞেস করল, সন্ধ্যায় সেলাইয়ের জন্য একটু জায়গা ধার পাওয়া যাবে কি না। তারপর আলতো করে বাক্সটা নামিয়ে রাখল। আধখানা পিঠার বদলে পাওয়া তামার পয়সাটা তখনও খরচ করেনি।
· এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ·
এই বইটি AI-এর সহায়তায় রচিত, ঝাং রুওশুর 《春江花月夜》 এবং মৌলিক ছোটগল্প 《借灯还舟》 অবলম্বনে সম্প্রসারিত। চরিত্র, ভূগোল ও ঘটনা সবই কাল্পনিক; এটি মূল কবিতার অনুবাদ বা পুনর্লিখন কিংবা কবির জীবনী নয়।
মন্তব্যের বিভাগ
মন্তব্য লোড হচ্ছে…
কিছু বলতে চান?মন্তব্য করতে লগইন করুন →