মূল বিষয়বস্তুতে যান

CooLWJ-এ খুঁজুন

选择搜索范围,输入关键词后按回车。

ভাষা

হাতে এক খণ্ড বই

প্রাচীন পটভূমিতে যাত্রাপথ ও সমাজজীবন নিয়ে দীর্ঘ উপন্যাস

ছোট জুতোর দাম

কু উজি · AI-সৃষ্ট রচনা · 8699 অক্ষর · প্রায় 9 মিনিট

নতুন জুতো পায়ে দিয়ে আশেং বলল না যে ছোট হয়েছে। ঘরের মধ্যে আগে দু পা হেঁটে বলল, দিদিমার বানানোটা মায়েরটার চেয়ে চকচকে। শুনেই শিয়াওমানের ভুরু কুঁচকে গেল। নতুন জুতোয় বেশি আওয়াজ বলে ছেলেটা রোজ অভিযোগ করে, আজ উল্টো তাড়াতাড়ি প্রশংসা করছে। সে উবু হয়ে জুতোর আগা টিপে বলল, পায়ের আঙুলগুলো ঢিলে কর। আশেং পারল না। তার মুখের হাসিটুকু তখন ধীরে ধীরে এমন হয়ে গেল, যেন অনুরোধ করছে আর কিছু জিজ্ঞেস কোরো না।

ছিন বুড়ি হাত বাড়িয়ে বললেন, একটু পরলেই নরম হয়ে যাবে। শিয়াওমান প্রথমেই তর্কে গেল না, ছেলেকে জুতো খুলতে বলল। পায়ের পাশে সত্যিই চাপের একটা হালকা দাগ বসেছে। সে ভেবেছিল নরম করে বলবে। কিন্তু দেখল ছেলে এখনও দিদিমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, পছন্দ হয়নি বললে পাছে বড়দের মন খারাপ হয়। তখন তার গলা হঠাৎ শক্ত হয়ে গেল। বলল, জুতো চাপলে বলতে হয়, পায়ে ব্যথা সয়ে কাউকে খুশি করতে হয় না। আশেং মাথা নিচু করল, ছিন বুড়ির হাতও থেমে গেল।

বৃদ্ধা বললেন, ছেলেটা গতবার যখন এসেছিল তখনকার মাপ ধরে খানিকটা বাড়তি রেখেছিলেন। মাত্র দু মাসে এতটা তফাত কী করে হলো। শিয়াওমান ভেতরটা উল্টে দেখে বুঝল জুতোর ওপরের অংশটা টান টান, আর ছেলের পা সামনের দিকে বাড়ছে। সব মিলিয়ে এক দিন বেশি পরলেই ঠিক হবে না। সে মাকে দেখিয়ে দিল, অথচ মা প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন, আগে ঠিক মাপটা সঙ্গে করে নিয়ে গেলি না কেন, আমি তো ছেলের পায়ের কাছে বসে মাপ নিইনি।

“তোমাকে তো করতেই হবে বলিনি।” শিয়াওমান বলল।

বলে ফেলেই সে বুঝল, কথাটা বেশি কড়া হয়ে গেছে। জুতোটা জোর করে বিয়ে দেওয়ার কোনো লিখিত বন্দোবস্ত নয়। মা দুদিনের জলপথ পেরিয়ে এনেছেন, ছেলেটার জন্য একটা একটা ফোঁড় দিয়ে বানানো জিনিস। কিন্তু এইটুকু সদিচ্ছার জন্য শেষমেশ যদি তাকে কষ্ট সয়ে জুতো পরতে হয়, তাহলে আবার যেন সে সেই পুরোনো ‘নিরাপদ ব্যবস্থা’র কথাই শুনতে পায়। যত অস্বস্তিই হোক, অন্যে যে আগেই এত যত্ন করেছে, আগে তার মর্যাদা দিতে হবে। সে জুতোটা টেবিলে রাখল, হাতটাকে যতটা সম্ভব গলার স্বরের মতো শক্ত হতে দিল না।

ছিন দিদিমা বললেন, পরতে না চাইলে পরতে হবে না। তাঁর গলার স্বরও শক্ত, যেন কারও দেওয়া জিনিস অন্যজন গ্রহণ করল কি না, তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। আ শেং দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে, পায়ে শুধু মোজা, পায়ের তলা ঠান্ডা। প্রথমে মায়ের দিকে সরল, অর্ধেক গিয়ে আবার থামল। শিয়াওমান দেখে বলল, গাও মানের কাছে গিয়ে গতকালের অক্ষরগুলো লেখ, আগে পুরোনো জুতোটা পরে নাও, এখানে দাঁড়িয়ে শোনার দরকার নেই। ছেলেটা দৌড়ে বেরিয়ে গেলে তবেই তার মনে হল, ঘরে এমন এক জোড়া চোখ কমেছে, যা দুজনের হয়েই কষ্ট পাচ্ছিল।

মা নতুন জুতোজোড়া বুকে তুলে কাঁচি খুঁজতে গেলেন। শিয়াওমান বুঝল, তিনি বোধ হয় এক কাটেই ব্যাপারটা চুকিয়ে দিতে চান। জুতো ফিরিয়ে নিয়ে বলল, একেবারেই যে বদলানো যাবে না তা নয়, আগে ভেতরের সেলাই খোলো, ওপরটাও নষ্ট কোরো না। দুজনের আঙুল এক জায়গায় ছুঁয়ে গেল, দুজনেই থামল। ছিন বুড়ি নিচু গলায় বললেন, তুই আগেও সব সময় এমনই ছিলি, ভালোটা আগে নিতে চাস না, সব কথা এমন করে বলতেই হবে যে শোনা যায় না।

শিয়াওমানের বুকটা হঠাৎ আঁট হয়ে এল। বলতে যাচ্ছিল, তার কারণ তুমি যা শুনতে চাও শুধু তা-ই শোনো। ঘুরে জানলার পাশে সবার ব্যবহারের যে বাতিটা সারানোর জন্য রাখা ছিল, সেটা চোখে পড়ল। মা সকালেই নতুন বাঁশের ফালি ঘষে তৈরি করে রেখেছে, কাজে চুলচেরা নিখুঁত। তখন বুঝল, সবকিছু ‘সারা জীবন এমনই’ বলে এক কথায় সরিয়ে দিলেও সেও কেবল নিজের কাজ সহজ করবে। সে কথার জবাব দিল না। আগে সুঁইয়ের নলটা এগিয়ে দিল, যাতে মায়ের হাতে করার মতো কিছু থাকে।

কিন্তু বৃদ্ধা ছিন নড়লেন না। বসেই বললেন, তুই এখন কেমন আছিস, তা যে আমিও সবসময় জানি এমন নয়। জুতো বানাতে চেয়েছিলাম, কারণ ফিরে আসার পর কদিন দেখেছি আ শেং দু পা গেলেই পুরোনো জুতো টেনে তোলে; লানতিং আসতে চেয়েছিলাম, কারণ শুনেছি মেয়ে এখনও জিজ্ঞেস করে আমার কাশি সেরেছে কি না; কখনও আগে কিছু করে দিতে ইচ্ছে করে, ভয় হয় জিজ্ঞেস করে উত্তর পেতে পেতেই আরও অনেক দিন চলে যাবে। বলতে বলতে অবশেষে আগের কথায় এলেন, বললেন, তুই চলে যাওয়ার পর ভালো আছিস এটুকুও কাউকে দিয়ে ঠিক করে জানাতে চাসনি।

শিয়াওমান মাথা তুলে জিজ্ঞেস করল, প্রথমবারের নৌযাত্রীটি পৌঁছেছিল কি না। মায়ের হাতের জুতোটা একটু দুলে উঠল, তিনি তক্ষুনি উত্তর দিলেন না। তাঁর এই থামাটা অস্বীকারের চেয়েও বেশি কষ্ট দিল। শিয়াওমান বুঝল, সে এক অংশ ঠিক আন্দাজ করেছে, কিন্তু যে অংশটুকুতে শুধু তার নিজের অপেক্ষাই বৃথা ছিল, সেটা জানতে তার ইচ্ছে করল না। সে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল, তাঁর মুখ থেকেই ‘পৌঁছেছিল’ কথাটা শোনার অপেক্ষায়।

ছিন বুড়ি বললেন, পৌঁছেছিল। বাড়ি ছাড়ার দুবছর পরে, গরমকালে তেল পৌঁছে দিতে এসেছিল জলপথের এক লোক। শিয়াওমান তার হাতে খবর পাঠিয়েছিল, সে এখনও দলে আছে, খাওয়ার অভাব হচ্ছে না, মা যেন চিন্তা না করেন। বৃদ্ধার প্রতিটি শব্দ পরিষ্কার মনে আছে, এতটাই পরিষ্কার যে এত বছর ধরে বলে আসা ‘কোনো খবর পাইনি’-র সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। শিয়াওমান জিজ্ঞেস করল, তাহলে পরে সে শুধু ‘তোর মা তোকে মেয়ে বলে মানতে চান না’ কথাটাই কেন শুনল? তার পরের বার্তাটা কী বলে শুরু করবে, সেটুকুও সে বুঝতে পারেনি।

মা বললেন, তিনি ওভাবে বলেননি। লোক দিয়ে বলিয়েছিলেন, মেয়ের সাহস থাকলে নিজে ফিরে আসুক, ধোঁয়াটে একটা কথা অন্যের মুখে পাঠানোর দরকার নেই। শেষটায় এসে তিনি নিজেই থামলেন। তখন চৌ পরিবারের উপহার ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। প্রতিটা বাতি বানানো যেন লোকের সামনে মেয়ের হয়ে এক ভাগ লজ্জার দেনা শোধ করা। মেয়ে কোনোমতে চালিয়ে নিতে পারছে শুনে তাঁর প্রথম অনুভূতি আশ্বাস ছিল না। মনে উঠেছিল, তাহলে তুই কেন এখনও ফিরে এসে আমাকে আপন বলে মানতে চাইছিস না?

“আমি তো বলিনি তোকে আপন বলে মানব না।” সে আবার বলল। গলা আর আগের মতো স্থির নেই।

শিয়াওমান বলল, ওই অর্থটাই যথেষ্ট ছিল। সে বছর তার বয়স মোটে বিশ। বাড়ি থেকে জবাব এসেছে কি না সে বারবার জানতে চায়, এ কথা পাছে কেউ শুনে ফেলে, তাই চেনা পথের কোনো নৌকা এলেই ভান করত, কোথা থেকে মাল এনেছে জানতে চাইছে। জলপথের সেই লোকটা যখন বলল মা তাকে ফিরে গিয়ে কথা বলতে বলেছেন, তার মনে হয়েছিল ফিরে গেলেও সেই একই বিয়ের সম্বন্ধ, একই বন্ধ দরজা। আগে রাজি না হলে ‘মা’ ডাকটুকু রাখারও কোনো জায়গা থাকবে না।

ছিন বুড়ি মাথা নিচু করে অবশেষে বললেন, কথাটা তিনিই শক্ত করে বলেছিলেন, বার্তাবাহক তাঁর হয়ে শক্ত করে দেয়নি। শিয়াওমানের চোখ এক মুহূর্ত গরম হলো, কিন্তু তখনই জল গড়িয়ে পড়ল না। সে এত দিন অপেক্ষা করেছে যে কথাটা অবশেষে সামনে এসে পৌঁছলেও সে আর সেই আগের মানুষটি নেই, যে একটা কথা শুনলেই ছুটে বাড়ি ফিরতে পারত। তার ছেলে উঠোনের বাইরে অক্ষর শিখছে, স্বামী আর বেঁচে নেই। মা আজ স্বীকার করেছেন বলে এর কোনোটার পথ থেকেই একটা দিনও কমবে না।

দ্বিতীয় বার ছিন বুড়ি সত্যিই খবরটা পাননি। শিয়াওমান বলল, আশেং জন্মানোর পর লু ঝেং তার হয়ে লিখে দিয়েছিল। দলের এক আত্মীয় নিজের বাড়ি ফিরছিল, তার হাতেই পাঠিয়েছিল। সে ভেবেছিল, মা আবারও খবরটা সরিয়ে রেখেছেন। বুড়ি মাথা নাড়লেন, খুব ধীরে। একটু আগের মতো নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার তাড়া দেখা গেল না। বললেন, বাচ্চা হয়েছে এমন খবর একবারও পেলে, তিনি যত জেদিই হোন, ষোলো বছর পরে তাকে কবে বিয়ে করেছিস জিজ্ঞেস করতে হতো না।

ওই একটা কথা থেকে পথের প্রত্যেকের খোঁজ শিয়াওমান বার করতে পারবে না। হারিয়ে যাওয়া একটা বার্তা দিয়ে এতগুলো বছরের ব্যাখ্যাও আর করতে চায় না। সে বলল, দ্বিতীয়টা পৌঁছয়নি বলে প্রথমটা তুমি শুনেছিলে, সেই কথাটা মুছে যায় না। মা ‘হুঁ’ বললেন, নিজের একার সেদিনের কষ্টের কথা তুলে তার জবাব দিলেন না। ঘরে শুধু বাইরে বাঁশি সাধার মৃদু আওয়াজ আসছিল। ভুল বাজিয়ে আশেং নিজেই হাসল, হাসি একবার থামে, আবার ফিরে আসে।

শিয়াও মান নতুন জুতোটা মায়ের হাঁটুর ওপর আবার রেখে বলল, আগে ভেতরের ধারটা খোলো, এখানে আরও একটু কাপড় রাখা যাবে। জুতো পালটে দিয়ে অসমাপ্ত কথাগুলোর বদলি করতে চায়নি সে। শুধু বিকেলে তাকে আবার মঞ্চে উঠতে হবে, আর অন্ধকার পর্যন্ত বসে থাকলেও বিশ বছর বয়সে পাঠানো সেই চিঠির কথাগুলো ফেরত আসবে না। বৃদ্ধা ছিন সুচটা নিলেন। প্রথমে আঙুল কাঁপল, কয়েক দম পরে স্থির হল। সেলাইয়ের রেখা ধরে খুব খুঁটিয়ে সুতো তুললেন, কাঁচি দিয়ে এক কোপে কেটে দিলেন না।

নাট্যঘরের বাতির দায়িত্বে থাকা লোকটা সারানো বাতি নিতে এল। কাগজটা ভালোভাবে বদলানো হয়েছে দেখে কয়েক ওয়েন মজুরি বাড়িয়ে দিল। চিন বুড়ি ফেরাতে যাচ্ছিল, শিয়াওমান আগেই বলল, এটা তার কাজ, তাকেই দিন। বুড়ি মেয়ের দিকে একবার তাকিয়ে শেষমেশ নিল। লোকটাকে বলে দিল, তোলার সময় শুধু এক ধার ধরে তুলবেন না, ঠেকনার বাঁশ আবার বেঁকে যাবে। কাজ জানা মানুষের গলার স্বরটা ফিরে আসতেই তার পিঠও যেন একটু সোজা হলো। সে কেবল ভুল কথা বলা আর ভুল মাপের জুতো বানানো এক মা হয়ে রইল না।

শিয়াওমান সব দেখল, মনটা একই সঙ্গে নরম হয়ে এল আর টনটন করল। ছোটবেলায় মায়ের বাতি বানানো দেখতে তার ভালো লাগত। সোজা দেখতে কটা বাঁশের ফালি তাঁর হাতে বেঁকে এমন একটা জিনিস হয়ে উঠত যা আলো দিতে পারে। পরে অভিনয় শেখা নিয়ে ঝগড়ার সময় সে বলেছিল, সারাজীবন এইটুকু বাতির কাগজ আগলে রেখে কী লাভ। কথাটা আকাশ থেকে পড়েনি, সে সত্যিই অন্য রকম জীবন চেয়েছিল। তবু মা যে কাজে সবচেয়ে পটু, সেটাকে সে বড় বেশি তুচ্ছ করে বলেছিল।

সে তখন কথাটা তুলে দুপক্ষকে দিয়ে একটা করে ভুল স্বীকার করিয়ে ন্যায়ের হিসাব মেলাতে গেল না। মা জুতোর এক পাশ সারানো পর্যন্ত অপেক্ষা করল। তারপর তার হাতের কাছে ঠান্ডা চায়ের বদলে গরম চা রাখল, নিজের ছড়ানো গানের পুঁথিগুলোও গুছিয়ে নিল। নতুন জায়গায় কাজ করা ওই হাত দুটোর জন্য টেবিলে আরেকটু জায়গা হলো। চিন বুড়ি মাথা নিচু করে কাজ করল। মেয়ের মুখের ভাব দেখেনি, অথবা দেখেও কিছু বলেনি।

বিকেলে শিয়াওমান মঞ্চে উঠল। মায়ের ভূমিকায় ‘ধরে রাখা যায় না’ কথাটা গাইতে গিয়ে হঠাৎ আধমাত্রা দেরি করল। ছাই হেং তার দিকে তাকাতেই সে তাল ধরে ফেলল। আজ বাড়িতে কী কথা হয়েছে বলে গোটা আসর তার মন গুছোনোর অপেক্ষায় বসে থাকতে পারে না। ওপাশে লু হেনিয়াং একটু সরে তাকে শ্বাস নেওয়ার অবকাশ দিল। অভিনয় শেষে জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছে, কথাটা পাল্টাবে কি না। সে বলল, আজকেরটা তার নিজের ব্যাপার, সংলাপ দিয়ে এখনই তাকে বাঁচাতে হবে না।

মা তখন জুতো কোলে নিয়ে মঞ্চের ধারে অপেক্ষা করছিলেন। দর্শক সবাই চলে গেছে, নৌকা সাজানো দুটো তক্তা শুধু পড়ে আছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, একটু আগের লাইনটা কি গোড়া থেকেই ছিল? শিয়াওমান বলল, ছিল। প্রথম মহড়ায় তার নিজের গলাতেও রাগ এসে পড়েছিল, কিন্তু সব সময় তো একজনকে শুনিয়েই গাওয়া যায় না। ছিন বুড়ি মাথা নিচু করে পায়ের ডগা দিয়ে তক্তার ধারটা ছুঁয়ে বললেন, দূর থেকে সত্যিই মনে হয় দুলছে, কাছে দেখলে স্রেফ দুটো কাঠ। শিয়াওমান লগিটা নিয়ে সবচেয়ে ধীর পা-টা ফেলে দেখাল, হাতটা আগে কোথায় নামে তা মাকে দেখতে বলল। বৃদ্ধাও নকল করে একবার হাত তুললেন, শরীর নড়ল না। নিজেই আগে হেসে বললেন, তিনি শুধু বাঁশের ফালি বাঁকাতে পারেন, এমন জল বাঁকিয়ে বের করতে পারেন না। শিয়াওমান লগিটা থামাল, আর কিছু বোঝাল না। দর্শকহীন মঞ্চের মুখে মা-মেয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পায়ের ঘষায় চকচকে হয়ে ওঠা পুরোনো কাঠ দুটোর দিকে তাকিয়ে রইল।

পেছনের ঘরে ফিরে দেখল, আ শেং সেলাই খুলে ঢিলা করা জুতো পরে হাঁটছে। এখনও একটু অস্বস্তি হচ্ছে, এবার সে নিজেই বলতে রাজি হল, বাঁ দিকটা এখনও আঁট। ছিন দিদিমা জুতোটা নিয়ে বললেন, তাহলে আরেকটু খুলে দিই, জোর করে সহ্য কোরো না। ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে সহজ হয়ে গেল। নিজের বাঁশের টুকরোটা তাঁকে দেখিয়ে বলল, দিদিমা বাতি সারাতে যে বাঁশের ফালিটা দিয়েছেন, সেটার বাঁক এর চেয়ে ভালো। তিনি বললেন, সব বাঁশ এক রকম নয়, যা-তা বাঁকানো যায় না। ছেলেটা আবার একবার খুঁত ধরেছে বলে তাঁর মুখ একেবারে কালো হয়ে গেল না।

সন্ধ্যায় মাকে সরাইয়ে পৌঁছে দিতে শিয়াওমান তাঁর থলিটা বয়ে নিল। মা কয়েকবার নিতে চাইলেন, প্রতিবার সে অন্য হাতে সরিয়ে নিল। পথে শুধু কাল ভোরে কোন নৌকা ধরবেন, সাংছিয়াওয়ের কোন সরাইটা একটু শুকনো, সেই কথাই হলো। সেদিন অন্যরকম হলে আজ কী হতো, তা আর কেউ জানতে চাইল না। দরজায় পৌঁছে ছিন বুড়ি থলি থেকে আঝাওয়ের জন্য আনা তেলটা বার করে বললেন, এই বোতলটা আর পিঠার সঙ্গে রেখো না। নৌকায় সব ভেবেচিন্তে রেখেছেন মনে হয়েছিল, তবু দুটোতেই গন্ধ লেগে গেছে।

শিয়াওমান বোতলটা নিয়ে একটু হাসল। সে বলল না যে অবশেষে বুঝেছে, মাও বললেন না, এবার তো আমার মনটা বোঝার কথা। তেলের বোতলটা একবার দুজনের হাত ঘুরে গেল। সত্যিই বেশ পিচ্ছিল, প্রায় হাত ফসকে যাচ্ছিল। মা-মেয়ে একই সঙ্গে হাত বাড়িয়ে সামলাতে গিয়ে একে অন্যের হাতে ঠেকল, তারপর দুজনেই একটু করে হাত আলগা করলে বোতলটা থলির কোণে ঠিকমতো বসল।

· এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ·

এই বইটি AI-এর সহায়তায় রচিত, ঝাং রুওশুর 《春江花月夜》 এবং মৌলিক ছোটগল্প 《借灯还舟》 অবলম্বনে সম্প্রসারিত। চরিত্র, ভূগোল ও ঘটনা সবই কাল্পনিক; এটি মূল কবিতার অনুবাদ বা পুনর্লিখন কিংবা কবির জীবনী নয়।

এই বইয়ের সূচিপত্র · ৩৬টি অধ্যায়
  1. নৌকার তিন দর
  2. তামার ফলক আর খালি খেয়া
  3. বাতির দোকানের সেই জানালা
  4. বাঁশের বাক্সের ভেতর পথ
  5. জলপথের দুই পর্ব
  6. যে সেলাই খোলে
  7. মঞ্চের পোশাক আর গায়ের পোশাক
  8. ঢোলের পাশের খালি জায়গা
  9. বাতি ফিরে এল দোকানের তাকে
  10. যে নামে আগেই সংসার পাতা হয়েছে
  11. নানথাংয়ের নতুন পালা
  12. নবম দিনের নৌকার টিকিট
  13. দরজার ভেতর এক ডাঁটি পেঁয়াজপাতা
  14. রাতে জানলাটা কে বন্ধ করবে
  15. সেলাই খুলে শেষ না-করা দুই ছি কাপড়
  16. নৌকা ভাড়া দেওয়ার পনেরো দিন
  17. খাটের একটি তক্তার শব্দ
  18. হাতার ঘের আরেকবার খোলা
  19. চতুর্থ মাসের জোয়ার
  20. মঞ্চের নিচ থেকে দেখা গোটা এক অঙ্ক
  21. দ্বিতীয় বেলার খাওয়া লানথিংয়ে
  22. ছোট জুতোর দাম
  23. পর্দার পেছন দিয়ে হাওয়া যায়
  24. মন্দিরের আসর জলের ধারে সরল
  25. বাতিল হয়ে যাওয়া একটি পালা
  26. মানুষকে ধরে রাখার ফোঁড়
  27. নৌকার গলুইয়ে দুটো ফলক
  28. বাচ্চাটা কি সঙ্গে যাবে
  29. সেই নৌকার টিকিট নেবে না
  30. গরমে পুরোনো নাটকের নতুন মহড়া
  31. দেখে তবেই জবাব
  32. পোশাকটা মানুষের হাতে তুলে দেওয়া
  33. বাতির আলমারির একটি পাল্লা খোলা থাক
  34. আরেকবার নদী পার
  35. শরতের পালার শেষ সুতো
  36. বাতি সারা রাত জ্বালিয়ে রাখতে হয় না

মন্তব্যের বিভাগ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

← বইয়ের তাকে ফিরে যান, পরের গল্পটি পড়ুন

আপনার থিম বাছুন

আপনার থিম পুরো সাইটে প্রযোজ্য হবে।