মূল বিষয়বস্তুতে যান

CooLWJ-এ খুঁজুন

选择搜索范围,输入关键词后按回车。

ভাষা

হাতে এক খণ্ড বই

প্রাচীন পটভূমিতে যাত্রাপথ ও সমাজজীবন নিয়ে দীর্ঘ উপন্যাস

মন্দিরের আসর জলের ধারে সরল

কু উজি · AI-সৃষ্ট রচনা · 9120 অক্ষর · প্রায় 10 মিনিট

ছিংশিং মঞ্চ মেরামতের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হবে, খবরটা এল মে মাসের শেষে, এক বেলার খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই। সব শুনেও গাও শৌছেংয়ের খাওয়ার কাঠি দুটো ওপরে ধরা রইল। জিজ্ঞেস করল, কবে বন্ধ হবে। লোকটা বলল, পরশু। ছাংছিং দল জুলাইয়ে আসবে, তার আগে মঞ্চের পাটাতন বদলাতে হবে, পেছনের ঘরগুলোও পাল্টাতে হবে। এই সময়টা আর অন্য দলকে ভাড়া দেওয়া যাবে না। টেবিলের পাশে গু মিং চোখ নামাল। গাও মান সোজা বাবাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি না বলেছিলে জুনের ওই কয়েকটা রাত পাকা হয়ে গেছে?

গাও শৌছেং খাওয়ার কাঠি নামিয়ে বলল, কথা পাকা করা আর টাকা জমা দেওয়া দুটো আলাদা ব্যাপার। ভেবেছিল, আগের আসরের টাকা এলেই আগে এটা দেবে। গাও মান জবাব দিল না, তার আঙুল বাটির কিনারে থেমে রইল। আঝাও এই প্রথম বুঝল, শরতের আসর নামে যে লক্ষ্যটা সামনে আছে, তার আগে আরও কত ছোট ছোট কাজ করে পাওনা মেটাতে হয়। কে বায়না জমা দেয়নি, কার টাকা আসতে দেরি হয়েছে, এসবেই কয়েক মাস ধরে মহড়া দেওয়া একটা পালার হঠাৎ দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও চলে যেতে পারে।

কেউ অনুষ্ঠানস্থলের মালিকের সঙ্গে তর্ক করতে যেতে চাইল। বলল, ছুনহে দল এত বছর ব্যবহার করেছে, এক কথায় বন্ধ করে দিলেই হলো? কাও শৌছেং নিজেই আগে গেল, আ-চাওকে দিয়ে যুক্তিপূর্ণ কাগজ লিখিয়ে নিল না। বিকেলে ফিরে এল, হাতার মুখ ভেজা, মুখও ভালো নয়। বলল, ওরা সত্যিই আগেই জিজ্ঞেস করেছিল অগ্রিম টাকা দেবে কি না, সে কয়েকবার পিছিয়েছে। ছাংছিং দল মেরামত করতেও রাজি, গোটা মরসুমও ভাড়া নেবে। মালিকেরও নিজের ঘর মেরামত করতে হয়, পুরোটাই ছোট দলকে তাচ্ছিল্য করা নয়।

কথাটা সে মেনে নিল, কিন্তু তাই বলে এখানেই সব গুটিয়ে ফেলতে রাজি হলো না। ঠিক ছিল, গোটা পালার পরীক্ষামূলক অভিনয়টা জুনেই আগে করে নেওয়া হবে। শরতের উৎসব পর্যন্ত ঠেকালে কোথাও তাল না মিললে আর ঠিক করার সময় থাকবে না। এই একটা আসর বাদ গেলে পরের পোশাকের কাপড়, খোরাকি আর যে যার জন্য তুলে রাখা পথখরচই বা কোথা থেকে মেলানো হবে? সে একে একে সব হিসাব টেবিলে রাখল। আগের মতো শুধু ‘সবাই একটু কষ্ট সও’ বলল না। ওই তিনটে শব্দ শোনার সময়ের চেয়েও ঘরটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

হৌহের জ্বালানি কাঠের আড়তের মালিক দুবার এসেছিল। পুরোনো দর্শকছাউনিটা মঞ্চ বাঁধার জন্য ধার দিতে রাজি, ভাড়াও ছিংশিংয়ের চেয়ে কম। গাও শৌছেং আগে জায়গাটা বড় নিরালা বলে নাক সিটকেছিলেন, এবার সবাইকে নিয়ে দেখতে গেলেন। আ ঝাও নমুনা পোশাকটা বুকে নিয়ে পেছনে গেল। ভেবেছিল, চওড়া মঞ্চে আ হেংয়ের পরের অঙ্কের পোশাকটা মিলিয়ে দেখবে। হৌহের ধারে গিয়ে দেখল, পুরোনো দর্শকছাউনি বলতে আধখানা ছাদ আর জলের কাছে দাঁড়ানো কয়েকটা খুঁটি। পাটাতন চওড়া, কিন্তু তার নিচে এক পাশ নরম কাদায় বসে গেছে।

কাঠের আড়তের মালিক বলল, প্রতি বছর জল বাড়লে এমনই হয়, জল নামলে কাঠের খুঁটি ঠিক থাকে। আগেও অভিনয় হয়েছে, কেউ সত্যিই পড়ে যায়নি। গু মিং সামনে গিয়ে পা ফেলে দেখল। কয়েক পা হাঁটতেই পাটাতন শব্দ করল বটে, কিন্তু পা টলল না। সে বলল, শুধু ধারগুলো মেরামত করলেই হবে, তার তলোয়ার নাচ নানথাংয়ের চেয়েও খোলামেলা হবে। লু হেনিয়াং তার পেছনে হাঁটলেন, কথাটা অস্বীকার করলেন না। ফিরে জিজ্ঞেস করলেন, বৃষ্টি হলে কোথায় পোশাক বদলাবে, পাড়ের ওই ছোট ঘরটা কি আগে খালি করা যায়।

আ ঝাও পাশে উবু হয়ে জল দেখছিল। লানছুয়ানের শাখাস্রোত এখানে ঢুকেছে, ওপর থেকে তেমন জোরে বয় বলে মনে হয় না, অথচ খুঁটির গা ঘিরে ছোট একটা ঘূর্ণি উঠে মিহি বালি টেনে আনছে। পুরো মঞ্চ কতজনের ভার নিতে পারে তা সে বোঝে না। শুধু জানে, জল এভাবে কুরে যেতে থাকলে কাদার নিচে চোখের আড়ালে যা আছে, তা কালকের মতোই থাকবে এমন কথা নেই। সে জিজ্ঞেস করল, এখানে নতুন কোনো নালা কাটা হয়েছে কি না। মালিক বলল, আগের মাসে কাঠের ভেলা যাওয়ার একটা পথ পরিষ্কার করা হয়েছে, জল একটু ভালো চললে তো মঙ্গল। তার কথায় বোঝা গেল, মঞ্চের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে বলে সে মনে করেনি।

মঞ্চ বাঁধার ওস্তাদ ইউ বাঁশের দণ্ড দিয়ে দুবার খুঁচিয়ে বলল, শুধু রেলিং সারাতে হলে দাম বলতে পারি। তলা দেখতে হলে জল নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করে নিচে ঢুকে চারপাশ দেখতে হবে, আজ হবে না। কাও শৌছেং জিজ্ঞেস করল, আর কতক্ষণ লাগবে? ওস্তাদ বলল, দেখতে আধ দিন, কতটা নষ্ট দেখে তারপর মেরামতের কথা। আবার আধ দিন শুনে কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, পরশুর মধ্যে পাটাতন পাতা না হলে যাত্রীদের পথে সাঁটা ইশতেহারগুলো কি আগেই ছিঁড়ে ফেলবে? ওস্তাদও রেগে বলল, তোমাদের তাড়া আছে বলে কাঠ নিজে থেকে সেরে উঠবে না।

আ ঝাও স্তম্ভের পাশের বালির কথা আবার বলতে যাচ্ছিল, এমন সময় শিয়াওমান তার দিকে একবার তাকাল। সে বুঝল, ওই নারী তাকে চুপ করতে বলছে না, শুধু ভয় পাচ্ছে নানা রকমের দুশ্চিন্তা একসঙ্গে মিশে গেলে শেষ পর্যন্ত কেউই সত্যি করে নিচের ভিতটা দেখবে না। তাই আগে সে নিজের দেখা জায়গাটি মিস্ত্রি ইউকে দেখিয়ে দিল, যাতে জল নামলে তিনি সেটি চিনতে পারেন; নৌকা চালাতে জানে বলেই গোটা মঞ্চ সম্পর্কে রায় দিতে পারে, এমন ভান আর করল না। মিস্ত্রি মাথা নেড়ে পুরোনো পেরেক দিয়ে স্তম্ভের পাশে একটি দাগ কাটলেন।

নানথাং ফেরার পথে কয়েকজন ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে হাঁটল। কু মিং আ চাওয়ের কাছে এসে নিচু গলায় বলল, ষষ্ঠ মাসে ছাংছিং দলের ব্যবস্থাপককে এসে দেখতে লোক মারফত খবর দিয়েছে। শুধু সুপারিশ চাইছে না, এমন একটা অংশ সত্যিই দেখাতে হবে যা নিজের জোরে দাঁড়ায়। ছোট দলের কাছে পুরো অঙ্কটা একবার পরখ করার মঞ্চও যদি না থাকে, তাহলে অন্যের মঞ্চের ধারে একটা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তার উপায় কী? সে তাড়াতাড়ি বলল, এই প্রথম লিউ শেংয়ের ঢঙে ঠাট্টা না করে। শুনে আ চাওয়ের মনে যে সামান্য ইচ্ছে ছিল সে থেকে যাক, সেটাই আবার তাকে আটকাতে না-পারার মায়ায় বদলে গেল।

সে বলল, ছোট কোনো আসরে করলেও তো দেখা যাবে। অর্ধেক বলতে না বলতেই মনে হলো, কথাটা বড় হালকা হয়ে গেল। নিজের ভাগে যদি শুধু টুকিটাকি কাজ পড়ে, তবু তো সে চায় তার তৈরি একটা গোটা পোশাক লোকে দেখুক। তবে গু মিংয়ের চাওয়াটা তার নিজের চাওয়ার সঙ্গে মিলছে না বলে কী করে বলে যে ছোট-বড় সব মঞ্চই এক? গু মিং বলল, ছোট আসরেও অভিনয় করা যায়, কিন্তু নতুন তলোয়ারের পর্ব মানে মঞ্চের কিনারায় দাঁড়িয়ে দু-পা ফেলা নয়। লোকের ধারণা হবে সে কেবল সংলাপ বলতে জানে, এই তার ভয়। আঝাওর যেমন ভয় যে সে শুধু সেলাই খুলে ধোয়ারই যোগ্য, এও প্রায় তেমন। কিন্তু তাতে নরম কাদা পায়ের চাপে শক্ত জমি হয়ে যায় না।

লু হেনিয়াং সামনে হাঁটছিল। হঠাৎ থেমে জিজ্ঞেস করল, তলোয়ারনাচটা যদি করা না যায়, আপাতত বাদ রাখা যায় কি না। গু মিংয়ের মুখ বদলে গেল। বলল, তার পক্ষে এ কথা বলা সহজ, সে এমনিতেই প্রধান গায়িকা, দর্শক আগে তাকেই চেনে। বলেই সে বুঝল কথাটা বিঁধবে। কিন্তু লু হেনিয়াং সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা বলল না। শুধু হাতার ভেতরের হিসাবের থলিটা একবার ছুঁয়ে বলল, ঘরভাড়ার ঘাটতি মেটাতে আমিও এই কয়েকটা আসরের দিকে চেয়ে আছি। সামনে একটা পথ খুলতে শুধু তুমিই এগুলোর ভরসায় বসে নেই।

পোশাকের তালিকাটা বুকে ধরে শিয়াওমান দুজনের কথা এতদূর গড়াতে শুনে আগে বলল, দুজনেই একটু দম নাও। অভিনয় করার ইচ্ছা তারও ওদের চেয়ে কম নয়। আশেংয়ের কাগজ-কলম, গরমের শুরুতে যে ভেতরের পোশাকটা বানাতে হবে, আর কয়েক মাসে তার জমানো সামান্য টাকা, সব কিছুর জন্যই এই দফার শেষে একটু সুরাহা হবে বলে সে ভেবেছিল। বিছানার নিচের পুরোনো ঢোলের তাকটাও জায়গা জুড়ে আছে। নতুন আয় না হলে ছেলেকে লেখার জন্য একটু বেশি টেবিলের জায়গা করে দেওয়ার কথাটা ভাবনাই থেকে যাবে। কিন্তু কারিগর ইউয়ের পায়ে ধূসর কাদার পরতটা দেখে তার মনে পড়ল, ছেলে প্রায়ই মঞ্চের ধারে দৌড়ায়। মনটা তখন অন্য দিকেই ভারী হয়ে গেল।

সন্ধ্যায় গাও শৌছেং গাও মানকে খুঁজে জিজ্ঞেস করল, মাল কেনার টাকা থেকে একটু সরানো যাবে কি না। মঞ্চ মেরামতে হয়তো ভাবনার চেয়ে কম লাগবে, টিকিটের টাকা উঠলেই ফেরত দেবে। গাও মান ছোট বাক্সটা পায়ের কাছে টেনে বলল, গতবার যে টাকা আগাম দিয়েছিল, সেটাই এখনও পুরো ফেরেনি। দলের অভাব আজ প্রথম জানল, এমন নয়, সাহায্য করতেও তার আপত্তি নেই। কিন্তু এই টাকা সে জমাচ্ছে পরে বাজারে মালপত্রের একটা ছোট দোকান বসাবে বলে। প্রতিবার স্বপ্নটার আভাস দেখা দিতেই সবার আগে দলের কাজে লেগে যাক, তা সে চায় না।

গাও শৌছেংয়ের মুখটা খুব খারাপ হয়ে গেল। জিজ্ঞেস করল, এ বাড়ি এখনও জলে ডুবে আছে, আর তুই আগে নিজের ছোট দোকানটার কথা ভাবছিস? গাও মান সঙ্গে সঙ্গে বলল, এখানটা বরাবর জলে থাকে বলেই তো আরও বেশি করে এমন একটুখানি জায়গা চাই, যা প্রতিবার এর সঙ্গে ডুববে না। বলে বাটি হাতে বেরিয়ে গেল। আঝাও দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতের নমুনাটা হঠাৎ ভারী ঠেকল। বাবার কাছ থেকে নৌকাটা পেয়েছে বলেই সে ধীরে ধীরে শেখার সুযোগ পায়। অথচ গাও মান হয়তো একই বাড়িতে নিজের জমানো টাকাটুকুও নিশ্চিন্তে ধরে রাখতে পারবে না।

এ বিবাদের মীমাংসা করার ভার তার নয়। সে পেছন পেছন গিয়ে গাও মানকে সুবুদ্ধি ধরতে বলল না, গাও শৌছেংয়ের কাছেও গিয়ে বলল না যে মেয়ের রাগটা সাময়িক। কাপড় বুকে নিয়ে ঘরে ফিরে যে অংশটায় বড় করে ঘুরতে হয় সেটা মেলে ধরল। নিজেই ঝুলটা ছোট করে দেখল, তারপর বুঝল, কেবল পোশাকের নিচের ধারটা জোর করে বদলালে চাল আর সংলাপ দুটোই বেমানান হয়ে যায়। ছোট মঞ্চ মানেই কয়েক পা কম হাঁটলেই চলবে না। যে জায়গাগুলো সহজে ছেড়ে দেওয়া যাবে বলে মনে হয়, প্রত্যেকটার সঙ্গেই অন্য কারও কাজ জড়িয়ে আছে।

পরে গু মিং পরখ করতে এসে আগের মতো কোনোমতে দু-পা হেঁটেই সেরে ফেলল না। ঠিক করা তলোয়ারের পর্বটা পুরো ঘুরে দেখাল। পোশাকের ঝুলে টান পড়ল না, কিন্তু তার পা অল্পের জন্য খাটের পায়ায় ঠোকা খায়নি। সে থেমে ঘরের ওইটুকু ফাঁকা জায়গার দিকে তাকাল। শেষে আর বলল না যে একটু আস্তে করলেই চলবে। আঝাওও সুযোগ পেয়ে ‘আগেই বলেছিলাম’ বলে বাহাদুরি দেখাল না। শুধু বলল, কাঠের তলোয়ারটা পাশে রেখে আগে তলোয়ার ছাড়া যে কটা পা ফেলতে হয়, সেগুলো করে দেখাও। সঙ্গে সঙ্গে কাউকে সন্তুষ্ট করবে এমন কোনো উপায় দুজনের কেউই পেল না।

রাতে গাও শৌছেং আবার পেছনের নদীর ধারে গেল। ফেরার সময় পরনের নিচের কাপড় কাদায় ভরা। আশেং ভাবল সে পড়ে গেছে, দেখতে ছুটল। গাও মান ছেলেটাকে কোলে করে সরিয়ে দিল। তারপর এক গামলা জল এনে বাবার পায়ের কাছে রাখল। ওই টাকাটা সে দিল না, আবার টাকা দেয়নি বলে গরম জলটুকুও আটকে রাখল না। গাও শৌছেং অনেকক্ষণ মাথা নিচু করে পা ধুল। তারপর বলল, মাসের দু-তারিখে জল নামবে, তখন ইউ কারিগরকে আরেকবার দেখতে বলব। আজ রাতেই সব কথা চূড়ান্ত করতে হবে না।

ঘরে কেউ রাজি হলো না, কেউ আপত্তিও করল না। এই আসর থেকে প্রত্যেকেরই কিছু পাওয়ার ছিল, তা কয়েক দিনের গরম ভাতই হোক। কেউ নিজের প্রাণ বাঁচাতে চাইলেই তার যুক্তি অন্যদের চেয়ে বেশি ওজন পায় না। শিয়াওমান কালকের পোশাকগুলো আগে আলাদা করল, আঝাওকে বলল ছোট আসরের মাপ ধরে দুটো হিসাব লিখে রাখতে, কাটতে তাড়া নেই। গাও শৌছেং দেখে যেন একটু চটে গেলেন, তাঁর আগেই কেউ হার মেনে নিয়েছে বলে। তবু শেষ পর্যন্ত তাকে কাজটা গুটিয়ে নিতে বললেন না।

পরদিন সকালে কাও মান এক বালতি আঠা নিয়ে পুরোনো নাটকের ইশতেহারগুলো খুলতে গেল। আ চাও মই ধরে দিল। সবে একটা খুলেছে, এমন সময় আগাম আসনের ছোট টিকিট হাতে এক দর্শক কারণ জিজ্ঞেস করল। পেছনের নদীর ধারে সরানো হবে শুনেই টাকা ফেরত চাইল। লোকটা ঝগড়া করতে আসেনি। শুধু বলল, সঙ্গে বয়স্ক মানুষ আছে, কাদার পাড় দিয়ে হাঁটা কঠিন। দশ ওয়েন দিয়েও তো তাকে বৃথা ঘোরানো চলে না। কাও মান টিকিটটা নিয়ে আগেই টাকা মেটানো হয়েছে বলে লিখে রাখল। জানাল, সন্ধ্যায় নানথাংয়ে এলে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। দর্শকেরই বুঝে নেওয়া উচিত বলে তাকে ফিরিয়ে দিল না।

আ ঝাও খুলে নেওয়া কাগজগুলো বুকে ধরে দেখল, ‘青杏台’, ছিংশিং মঞ্চের তিনটে অক্ষর আঠায় ভিজে ছড়িয়ে গেছে। তার খুব অস্বস্তি হল, যেন সেও কারও হয়ে বেশি জোর দিয়ে কোনো কথা দিয়ে ফেলেছে। আগে থেকে আসন কাটা আটটা টিকিটের দাম মোট আশি ওয়েন। টাকা দলে এসে গেছে, অথচ কোথায় অভিনয় হবে এখনও ঠিক নেই। গাও মান বলল, টিকিটের টাকা আগে আলাদা করে রাখতে হবে, মঞ্চ সারাতে সরানো চলবে না। সত্যিই অভিনয় বন্ধ হলে পুরো টাকাই ফেরত দিতে হবে। তার বাবাও রাজি হলেন, যদিও সবাই এখনও মেনে নিতে চাইছিল না যে এই অভিনয়টা হয়তো হবে না।

অন্য এক খদ্দের আবার টাকা ফেরত নিতে চাইল না। বলল, ষষ্ঠ মাসের ওই কটা রাতেই তার ফুরসত, মঞ্চ দূরে সরালেও সে আসবে। কেউ কাদা অপছন্দ করে বলেই যেন অভিনয় বন্ধ না হয়। দুই পক্ষই সত্যি কথা বলছে। আঝাও এক পক্ষের কথা দিয়ে অন্য পক্ষকে চুপ করাতে পারল না। শুধু নতুন ঠিকানার জায়গাটা আপাতত ফাঁকা রাখতে সাহায্য করল, জল নামলে দেখে নিয়ে তবেই লেখা হবে। মইয়ের নিচ থেকে কাগজ ধরতে গিয়ে তার হাতের পিঠে আঠা লেগে গেল। নিজে আরেকটু বেশি খাটলেই ওই আটটা টিকিটের সব সমস্যা মিটবে, এমনটা সে আর ভাবতে পারল না।

বিকেলে আ-ঝাও আবার পুরোনো দর্শকছাউনিটা মাপতে গেল। সঙ্গে নিল মাপ লেখার কাগজ, নিজের নৌকা ভাড়া দেওয়ার চুক্তিপত্রটা নয়। সবার হয়ে অভিনয় বন্ধ করার এখতিয়ার তার তখনও ছিল না। সে কেবল মঞ্চের সামনের অংশ, পোশাক বদলানোর জায়গা আর খুঁটির পাশের জলের উচ্চতা ঠিকঠাক নথিভুক্ত করতে পারত, যাতে যাদের সত্যিই সেখানে চলাফেরা করতে হবে তারা দেখে নিতে পারে। কারিগর ইউয়ের রেখে যাওয়া পেরেকের দাগ ছিল খুব অগভীর। আঙুল বুলিয়ে সে তা টের পেল। পাশেই এক পাক জল আরও কয়েক দানা বালি ভাসিয়ে নিয়ে গেল, অথচ মঞ্চের পাটাতনে রোদ ঝলমল করছিল। দূর থেকে জায়গাটা এখনও যথেষ্ট চওড়া, এত সুন্দর যে ছেড়ে যেতে মায়া হয়।

· এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ·

এই বইটি AI-এর সহায়তায় রচিত, ঝাং রুওশুর 《春江花月夜》 এবং মৌলিক ছোটগল্প 《借灯还舟》 অবলম্বনে সম্প্রসারিত। চরিত্র, ভূগোল ও ঘটনা সবই কাল্পনিক; এটি মূল কবিতার অনুবাদ বা পুনর্লিখন কিংবা কবির জীবনী নয়।

এই বইয়ের সূচিপত্র · ৩৬টি অধ্যায়
  1. নৌকার তিন দর
  2. তামার ফলক আর খালি খেয়া
  3. বাতির দোকানের সেই জানালা
  4. বাঁশের বাক্সের ভেতর পথ
  5. জলপথের দুই পর্ব
  6. যে সেলাই খোলে
  7. মঞ্চের পোশাক আর গায়ের পোশাক
  8. ঢোলের পাশের খালি জায়গা
  9. বাতি ফিরে এল দোকানের তাকে
  10. যে নামে আগেই সংসার পাতা হয়েছে
  11. নানথাংয়ের নতুন পালা
  12. নবম দিনের নৌকার টিকিট
  13. দরজার ভেতর এক ডাঁটি পেঁয়াজপাতা
  14. রাতে জানলাটা কে বন্ধ করবে
  15. সেলাই খুলে শেষ না-করা দুই ছি কাপড়
  16. নৌকা ভাড়া দেওয়ার পনেরো দিন
  17. খাটের একটি তক্তার শব্দ
  18. হাতার ঘের আরেকবার খোলা
  19. চতুর্থ মাসের জোয়ার
  20. মঞ্চের নিচ থেকে দেখা গোটা এক অঙ্ক
  21. দ্বিতীয় বেলার খাওয়া লানথিংয়ে
  22. ছোট জুতোর দাম
  23. পর্দার পেছন দিয়ে হাওয়া যায়
  24. মন্দিরের আসর জলের ধারে সরল
  25. বাতিল হয়ে যাওয়া একটি পালা
  26. মানুষকে ধরে রাখার ফোঁড়
  27. নৌকার গলুইয়ে দুটো ফলক
  28. বাচ্চাটা কি সঙ্গে যাবে
  29. সেই নৌকার টিকিট নেবে না
  30. গরমে পুরোনো নাটকের নতুন মহড়া
  31. দেখে তবেই জবাব
  32. পোশাকটা মানুষের হাতে তুলে দেওয়া
  33. বাতির আলমারির একটি পাল্লা খোলা থাক
  34. আরেকবার নদী পার
  35. শরতের পালার শেষ সুতো
  36. বাতি সারা রাত জ্বালিয়ে রাখতে হয় না

মন্তব্যের বিভাগ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

← বইয়ের তাকে ফিরে যান, পরের গল্পটি পড়ুন

আপনার থিম বাছুন

আপনার থিম পুরো সাইটে প্রযোজ্য হবে।