মূল বিষয়বস্তুতে যান

CooLWJ-এ খুঁজুন

选择搜索范围,输入关键词后按回车。

ভাষা

হাতে এক খণ্ড বই

প্রাচীন পটভূমিতে যাত্রাপথ ও সমাজজীবন নিয়ে দীর্ঘ উপন্যাস

নানথাংয়ের নতুন পালা

কু উজি · AI-সৃষ্ট রচনা · 8844 অক্ষর · প্রায় 9 মিনিট

দ্বিতীয় মাসের চব্বিশ তারিখে লানথিং পৌঁছে আঝাও আগে দেখল, নানথাংয়ের বাইরের পালার বিজ্ঞপ্তি বদলেছে কি না। পুরোনো লাল অক্ষরের পাশে দুটো নতুন কাগজ। তাতে লেখা, 《芦花渡》 (নলফুলের খেয়াঘাট)-এর একটি অঙ্কের পরীক্ষামূলক পরিবেশনা। নিচে ছোট অক্ষরে বর্ষার দিনে পাশের দরজা দিয়ে দর্শকদের ঢুকতে বলা হয়েছে। আঝাও ধীরে ধীরে অক্ষর পড়ে। দরজার সামনে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল যে বেঞ্চ বয়ে আনা লোকেরা সরতে বলল, তখনই বাক্স কোলে নিয়ে দেয়ালের পাশে সরে গেল।

গাও মান তাকে চিনে জিজ্ঞেস করল, এবার কত দিন থাকবে। আঝাও বলল, কাজ থাকলে এই দফার পালা শেষ হওয়া পর্যন্ত থাকতে চায়। গাও মান রাজি কি না বলল না, শুধু পেছনের উঠান দেখিয়ে বলল, শিয়াওমান ভেতরের পোশাক শুকোতে দিচ্ছে। উঠানের দড়ি আগের চেয়ে নিচু। একটা ভেজা কাপড় কপাল অবধি ঝুলছিল, আঝাও প্রায় ধাক্কা খেয়েই হাত তুলে ঠেকাল। কেউ নিতে আসেনি বলে এবার আর মনে করল না যে তার দরজাতেই দাঁড়িয়ে থাকা উচিত। মেলা কাপড় পাশ কাটিয়ে সোজা সেই চেনা হাত দুটোর খোঁজে গেল।

আ চাওকে দেখেই চিন শিয়াওমান জিজ্ঞেস করল, নৌকাটা বিক্রি হয়েছে? আ চাও বলল, আছে, তিং ছুয়ান দেখছে। সে বাড়ির এই কয় দিনের সব কথা বলতে চেয়েছিল, কিন্তু শিয়াওমান বালতির একগাদা পোশাকের ফিতে দেখিয়ে বলল, তুলে দিতে সাহায্য করো, বেশিক্ষণ ভিজিয়ে রাখা যাবে না। আ চাও হাতা গুটিয়ে হাত ডোবাল। জল ধারণার চেয়ে ঠান্ডা, তুলতেই একটা ফিতে কবজিতে জড়িয়ে গেল। দুজন জল নিংড়োতে নিংড়োতে কথা বলল। পুরোনো বিয়ের সম্বন্ধ আর নেই, কাগজটা পুড়ে গেছে। কথাগুলো সব আধ বালতি জলের শব্দের মধ্যে মিশে গেল।

শিয়াওমান সব শুনে ধন্যবাদ দিল না, হাসলও না। আঝাও ভেবেছিল সে ঠিক শুনতে পায়নি, তাই আবার বলল, ছিন বুড়ি কাগজটা নিয়ে কোথাও গিয়ে কাউকে নিজের বলে দাবি করতে চাননি। শিয়াওমান হাতের ফিতেটা শেষবারের মতো নিংড়ে বলল, তার প্রশ্ন তো কাগজটা দিয়ে কাকে দাবি করা যায় তা নিয়ে ছিল না। ওই মানুষটা মনে মনে ছেড়ে দিতে রাজি কি না, সেটাই জানতে চেয়েছিল। আঝাওয়ের মনে পড়ল, ছিন বুড়ি চুলোর পাশে কদিন থমকে ছিলেন। তিনি সব ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁর হয়ে এমন কথা বলল না। শুধু বলল, সে যা শুনেছে তাই জানিয়েছে, বাকিটা শিয়াওমানকে নিজেই জিজ্ঞেস করতে হবে।

“আমাকে দেখানোর জন্য পোড়াতেও তো বলিনি।” শিয়াওমান বলল।

আঝাওয়ের বুকটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল। পথজুড়ে খবরটাকে নিজের কৃতিত্ব বলে ভাবেনি। এখানে এসেই টের পেল, মনে মনে এখনও আশা করেছিল কেউ একবার বলবে, এবার ঠিক হয়েছে। কিন্তু শিয়াওমান কথাটা তাকে বিঁধিয়ে বলেনি। সে ভেজা পোশাকটা ঝাড়া দিয়ে খুলে প্রথমে কাঁধ-পিঠ দিয়ে হাওয়া ঠেকাল, তারপর যত্ন করে বাঁশের দণ্ডে মেলে দিল। আঝাও তাড়াতাড়ি অন্য প্রান্তটা ধরল। দুজনের চেষ্টাতেই পোশাকের ঝুলটা ফের কাদায় লুটিয়ে পড়ল না। একটু আগের শীতলতাটা আপাতত এই কাজের চাপে সরে গেল।

বিকেলে গাও শৌছেং তাকে দুটো ছোট জামা দেখিয়ে জিজ্ঞেস করল, কত দিনে হবে। আঝাও আগে জানতে চাইল, কারা পরবে। গাও শৌছেং উঠোনের দিকে দেখাল। একজন সবে ঘুম থেকে উঠেছে, অন্যজন আধ বাটি ভাত গিলছে। দুজনের সময় হলে গায়ে পরিয়ে দেখতে হবে, শুধু টেবিলে একবার ভাঁজ করে কাজের সময় বলে দেওয়া যায় না। দলপতি একটু অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল, একটা ফিতে সরানো আর একটা তালি দিতে এত কিছু কেন? শিয়াওমান আঝাওয়ের হয়ে সাফাইও দিল না, গাও শৌছেংয়ের হয়ে তাড়াও দিল না। নিজে জামা দুটো নিয়ে দু-একবার মিলিয়ে দেখে তারপর বলল, সত্যিই পরিয়ে দেখতে হবে।

আ ঝাও বলল দুদিন লাগবে, ছোট পোশাক পিছু বারো ওয়েন। গাও মান কাঠের ফলকটা উল্টে বলল, একটাতে কেবল এক জায়গায় তালি বসাতে হবে, সেটার দামও পুরো পোশাক বদলানোর মতো ধরা যায় না। দুজনেই পোশাকের দিকে আঙুল দেখিয়ে নিজের কথা বলল। আ ঝাওয়ের একবার মনে হল, আবার তাকে নতুন পেয়ে ইচ্ছেমতো খাটানো হচ্ছে, মুখ গরম হয়ে উঠল। পরে পরিষ্কার করে জেনে নিল, একটার জন্য বারো, অন্যটার জন্য আট, আর ফিতা ধোয়ার জন্য দুই ওয়েন। তখন ধীরে মাথা নাড়ল। ‘তুমি থাকতে চাইলেই আমি রাখব’ বলে উদারতা দেখানোর ব্যাপার ছিল না এটা। কাজ হাতে এলে দেখা যায়, একেক জায়গার সেলাইয়েরও একেক দাম।

গাও মান সরে যেতেই শিয়াওমান জিজ্ঞেস করল, আ ঝাওয়ের সঙ্গে আনা পথখরচ এখনও যথেষ্ট আছে কি না। আ ঝাও প্রথমে বলতে চেয়েছিল আছে, কিন্তু সরাইয়ে প্রতি রাতের আট ওয়েনের কথা মনে করে স্বীকার করল, আগেরবারের ওইটুকু কাজই যদি করে যেতে হয়, বেশিদিন থাকা চলবে না। শিয়াওমান বলল, আগেরবার বেশির ভাগ সময় সে অন্যদের কাজ দেখেছে, মজুরি পাওয়ার মতো কাজ ছিল ওই ছোটখাটো কয়েকটা। করতে পারলে নিশ্চয় আরও কাজ আছে, কিন্তু এখনও করা হয়নি এমন কাজের জন্য সে আগাম মোটা আয় ধরে দিতে পারে না। বলে এক থলে জট-পাকানো সুতো এগিয়ে দিল, আ ঝাও যেন ফাঁকে সেগুলো ছাড়িয়ে রাখে, একটু পরেই তার লাগবে।

থলিটার দিকে তাকিয়ে আ চাও হঠাৎ তক্ষুনি নিতে চাইল না। শিয়াওমান অপেক্ষা করল, যেন একটু আগে কী বলেছে সে খেয়ালই করেনি। শেষমেশ আ চাও থলিটা নিল, তবে শুধু আজ রাতে যে কটা রং লাগবে সেগুলো বেছে নিয়ে বাকিটা আগের জায়গায় রাখল। শিয়াওমানের ভ্রুর কোণ নড়ল, মুখে কিছু বলল না। আ চাও ছোট জামাটা পরিয়ে দেখতে গেলে তবেই নিজে বাকি সুতোগুলো একে একে ছাড়াল। খুব দ্রুত ছাড়াল, আর খুব অসন্তুষ্ট মনে।

ঠিক তখন গু মিং ঢুকে জিজ্ঞেস করল, মিস হে এবার তার জন্য শুকনো পিঠের আধখানা এনেছে কি না। আ ঝাও শিমের পিঠের পুঁটলিটা আরও ভালো করে জড়িয়ে বলল, এবার আনেনি, পুরোনো কথা টেনে বারবার সুবিধা নিতে এসো না। পাশ থেকে আ শেং সঙ্গে সঙ্গে মায়ের পুঁটলিটা হাত দিয়ে আগলে বলল, এসব তাদের বাড়ির। গু মিং দুজনের মুখের দিকে পালা করে তাকিয়ে হেসে হার মানল। তারপর হাতার ভেতর থেকে নতুন কেনা একটা ছোট ঝমঝমি বার করল, কিন্তু ছেলেটাকে শুধু দেখাল, কিছুতেই দিল না। আ শেং তার পেছনে ছুটল, উঠোনের অর্ধেকটা মুহূর্তে হুলুস্থুল হয়ে উঠল।

আঝাও দেখতে দেখতে হাতের মাপের ফিতেটা একটু ঢিলে করে ফেলল। শিয়াওমান পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় নিচু গলায় বলল, আগে মাপটা শেষ করো, পোশাক পরা লোকটা দ্বিতীয় বাটি ভাত খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। ফিরে তাকিয়ে দেখল, পুরুষ অভিনেতাটি দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সত্যিই অধৈর্য হয়ে গেছে, আর সে নিজে ফিতের মাথা ধরে নড়ছে না। তাড়াতাড়ি ভুল স্বীকার করল, কিন্তু ভেতরে মানতে চাইল না। একটু আগে তো সবাই ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ছিল, শুধু তাকেই কেন আলাদা করে কাজে ফেরানো হলো।

সন্ধ্যায় অঙ্কের মহড়া। আ চাও এই প্রথম মঞ্চের পেছনে বসে দেখল পুরো দল কী করে আধখানা উঠোনকে নদী বানায়। নৌকা মাত্র দুটো তক্তা, পাড় পাশের একগাছা দড়ি। কু মিং একবার পা তুললেই পার হতে পারে, অথচ মঞ্চে ওই অদৃশ্য জলটা তাকে পেরোতেই হবে। আ শেং পেছন দিয়ে ছুটতে চেয়েছিল। শিয়াওমান কলার টেনে ধরে তাকে পোশাকের বাক্সের কাছে বসাল। ছেলে বলল, সে তো শব্দ করেনি। মা পায়ের নিচে দেখিয়ে দিল, যত হালকা পায়েই চলো, তক্তা তোমার হয়ে কথা বলবে।

প্রথম অঙ্কে লিউ শেংয়ের যাত্রার তাড়া। মুখে সে গায়, হালকা নৌকায় এক দিনের পথ, অথচ পা বাড়াতেই আহেং তাকে থামিয়ে আগে নৌকাভাড়া চাইল। গু মিং গরিব পণ্ডিতকে বড়লোকের ঢঙে গাইতে চায়, তাই হাতা হাতড়ানোর ভঙ্গিটা অনেকক্ষণ টানল। অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে লু হেনিয়াং নিজেই হাত বাড়িয়ে তার অন্য হাতাটা তল্লাশ করলেন। নিচে বসে মহড়া দেখা কয়েকজন কর্মী হো হো করে হাসল। গু মিং তখনই একটা সংলাপ বদলে বলল, টাকা আছে স্বপ্নে। লু হেনিয়াং জবাব দিলেন, তাহলে স্বপ্নের নৌকাকেই বলুন আপনাকে পার করতে। পুরোনো পাণ্ডুলিপিতে এসব ছিল না। পর্দার পাশে গাও শৌছেং প্রথমে ভুরু কুঁচকালেন, কিন্তু হাসি শুনে শেষ পর্যন্ত থামতে বললেন না।

আ ঝাও হাসতে হাসতে কোমর ভাঁজ করে ফেলল, আঙুলের ফাঁকে তখনও সুচ। বিপদের কথা মনে হতেই তাড়াতাড়ি সেটা নলে ভরে রাখল। হঠাৎ সে খানিকটা বুঝল, বাইরে থাকলে খিদে সইতে হবে, পোশাকও সেলাই করতে হবে জেনেও শিয়াওমান কেন এই জায়গাটাকে কেবল বাধ্য হয়ে বেছে নেওয়া বলে মানতে চায় না। মঞ্চের সামনের লোকগুলো সত্যিকারের মানুষ, মঞ্চের ওপর তারা আবার অন্য কেউ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি নৌকার ভাড়া চেয়েও খেয়াঘাটের চেয়ে একেবারে অন্য রকমের আনন্দ পাওয়া যায়।

কিন্তু হাসিখুশির পালা ফুরিয়ে মায়ের চরিত্রটি মঞ্চে উঠতেই মঞ্চের পাশটা চুপ হয়ে গেল। শিয়াওমান স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু স্বরে গাইল। তার ‘যেয়ো না’ কথাটায় রাগ ছাড়াও আরও কিছু ছিল। আ-ঝাও তার কাঁধের পেছনের ছায়াটার দিকে চেয়ে হঠাৎ ছিন বুড়িমার কাউন্টারের সামনে প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে থেমে থাকা হাতটার কথা ভাবল। পরক্ষণেই মনে হলো, প্রতিবার এভাবে দুজনকে এক ছাঁচে ফেলা তার উচিত নয়। নাটকের মা লিউওয়ানের সেই বাতি-বিক্রেতা নন, আর চোখের সামনের নারীটিও কেবল কারও ষোলো বছর আগে হারানো মেয়ে নয়।

ছাব্বিশ তারিখের প্রথম পালায় চল্লিশজনের মতো এল, কেউ বসল, কেউ দাঁড়াল, বাঁশের টাকাদানিতে তামার মুদ্রা পড়ার আওয়াজে উঠোনটা রোজকার চেয়ে সরগরম শোনাল। কাও শৌছেং দরজায় চেনা অতিথিদের শনাক্ত করছিল, পরক্ষণেই আবার এক পায়া কম এমন একটা টুল আনতে গেল। আ চাও ভেবেছিল পালা শুরু হলে চুপ করে বসে সেলাই করতে পারবে, কে জানত মঞ্চের সামনে থেকে একটা ডাক এলেই পেছনে কাউকে ফিতে এগিয়ে দিতে হবে, শিরোভূষণ সরিয়ে রাখতে হবে, ভেজা তোয়ালে নিতে হবে। সে মাত্র দুবার দৌড়ে সাহায্য করল, তাতেই হাতার ভেতর সুতোর গোছায় গিঁট পড়ে গেল।

এক পালা শেষ হতেই লু হেনিয়াংয়ের কলারের ধার ভিজে একাকার, সারাদিন ভেজানো-কাচা কাপড়ের চেয়েও যেন ভারী। আ ঝাও ঝুলিয়ে দিতে হাত বাড়াতেই লু হেনিয়াং আগে বলল, ভারী অলংকার যেন ভাঁজের ওপর চাপ না দেয়। তারপর নিজে জল খেতে গেল, অর্ধেক খেতেই দর্শকদের ধন্যবাদ জানাতে ডাক পড়ল, বাটিটা আবার ছুড়ে ফেরত দিল। আ ঝাও ধরে একটু বিরক্ত হলো, মনে হলো সবার হাতই তার চেয়ে ফাঁকা। যখন পালটা বলতে চাইল, মানুষটি ততক্ষণে পর্দার বাইরে হেসে অভিবাদন করছে, মুখে ক্লান্তির চিহ্নই দেখা যাচ্ছে না।

টাকা গোনার সময় বোঝা গেল, এত জমজমাট আসরেও নিট আয় তেমন নেই। জায়গার মালিক আগে ভাড়া নিয়ে গেলেন, ধার করা বেঞ্চগুলো ফেরত দিতে হবে, ছাই হেংয়ের ঢোলের চামড়া আবার টানটান করার টাকাও তুলে রাখতে হবে। কু মিং কিছু অগ্রিম চাইল, ছোট ভাইকে বসন্তের পড়ার বই কেনার টাকা পাঠাতে হবে। কাও শৌছেং বললেন, আরও দুটো আসর অপেক্ষা করো। পাশে বসে কাও মান হিসাব লিখল। বাড়িতে তাড়া আছে বললেই কাঠের ফলকের অঙ্কটা নিজে থেকে বেড়ে যায় না। আঝাও দাঁড়িয়ে শুনছিল, একটু আগে যে নতুন কাপড়ের কথা জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিল, আস্তে আস্তে সেটা পরের বারের জন্য তুলে রাখল।

মাসের শেষে দুদিন বৃষ্টি হল, অভিনয় সরু হলঘরের ভেতর সরিয়ে নেওয়া হল। মঞ্চের মুখ ছোট হতেই আ হেংয়ের লম্বা হাতা পাশের খুঁটিতে ঝাপটা মারতে লাগল। লু হেনিয়াংকে এক জায়গায় ছোট করে ঘুরতে হল, তাঁর মুখ ভার। আ ঝাও প্রথমে ভেবেছিল, বাহবা একটু কমে যাবে বলে তাঁর মন খারাপ। পরে পোশাক সরাতে গিয়ে বুঝল, খুঁটিতে কাঠের খোঁচা বেরিয়ে আছে, আগের মতো ঘুরলে হাতার মুখ সত্যিই আটকে ছিঁড়বে। সে এক ফালি বাতিল কাপড় দিয়ে খুঁটির কোণটা মুড়ে দিল। সব চাল কেমন হবে তা ঠিক করার ভার নিল না, শুধু সামনে একটা বিপত্তি কমাল।

লু হেনিয়াং ব্যাপারটা দেখে থুতনি একটু তুলে তাকে ধন্যবাদ জানালেন। ইশারাটা সামান্য, অথচ আঝাওয়ের আনন্দটা দুই ওয়েন পাওয়ার আনন্দের মতো সঙ্গে সঙ্গে সামলে নেওয়া গেল না। সেও স্বীকার করতে চায় না যে আরও বড় মঞ্চে উঠতে চাওয়া গু মিংদের সঙ্গে তার খুব একটা তফাত নেই। নিজের কাজ কারও চোখে পড়ুক, সামান্যটুকু হলেও, সেও তা চায়। রাতে সরাইয়ে ফিরে এই দুদিনের পাওনা বাইশ ওয়েন গুনে রাখল, তা দিয়ে নিজের জন্য চোখে পড়ার মতো কিছু কিনল না।

তৃতীয় মাসের দ্বিতীয় দিনে গাও শৌছেং বলল, এই দফার অভিনয় নবম দিন পর্যন্ত চলবে। আবহাওয়া আবার খারাপ হলে গুটিয়ে নেওয়া হবে, আর টানা হবে না। তারিখ শুনেই আঝাও ফেরার নৌকার খোঁজ নিতে গেল। এখন সে নানথাংয়ে নিজের বসার জায়গা নিজেই খুঁজে নিতে পারে, কেউ আঝাও বলে ডাকলে বুঝতে পারে তাকেই ডাকছে। পরের বার বেরিয়ে প্রথমবারের মতো শুধু একটা নাম জিজ্ঞেস করে বেড়াতে হবে না। তবে শিয়াওমান নদী পার হওয়ার কথা তুললেও কবে যাবে, সেটা অন্য কাউকে ঠিক করতে দেয়নি।

সেই রাতে আঝাও মাপ লেখার পুরোনো কাগজটা মেলে ধরল। ‘ধূসর-নীল পোশাক’ কথাগুলোর পাশে তিনটে ছোট টোকা যোগ হয়েছে, কে পরবে, আগে পরিয়ে দেখো, খোলার আগে জিজ্ঞেস করো। নিজের হাতের লেখা ছেলেমানুষের মতো দেখে সে পরিষ্কার করে আরেকবার টুকে নিতে চাইল। একটু ভেবে পুরোনো কাগজটাই রেখে দিল। বাইরে কু মিং বিদায়ের সময় লিউ শেংয়ের সংলাপটা আওড়াচ্ছিল। মাঝি-মেয়েকে আবার আসার কথা দেওয়ার কথা ছিল, হঠাৎ আটকে গিয়ে দেয়ালের ওপার থেকে জিজ্ঞেস করল, আগের লাইনটা কোথায় এসে থেমেছে কেউ শুনেছে কি না। অন্য দিক থেকে লু হেনিয়াং বললেন, আবার একবার পারানির কড়ি কম দেওয়ার তালে ছিলে। আঝাও মাথা নিচু করে হাসল। তাতে কাগজের শেষ কালির বিন্দুটা একটু বেঁকে গেল, সে আর নতুন করে লিখল না।

· এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ·

এই বইটি AI-এর সহায়তায় রচিত, ঝাং রুওশুর 《春江花月夜》 এবং মৌলিক ছোটগল্প 《借灯还舟》 অবলম্বনে সম্প্রসারিত। চরিত্র, ভূগোল ও ঘটনা সবই কাল্পনিক; এটি মূল কবিতার অনুবাদ বা পুনর্লিখন কিংবা কবির জীবনী নয়।

এই বইয়ের সূচিপত্র · ৩৬টি অধ্যায়
  1. নৌকার তিন দর
  2. তামার ফলক আর খালি খেয়া
  3. বাতির দোকানের সেই জানালা
  4. বাঁশের বাক্সের ভেতর পথ
  5. জলপথের দুই পর্ব
  6. যে সেলাই খোলে
  7. মঞ্চের পোশাক আর গায়ের পোশাক
  8. ঢোলের পাশের খালি জায়গা
  9. বাতি ফিরে এল দোকানের তাকে
  10. যে নামে আগেই সংসার পাতা হয়েছে
  11. নানথাংয়ের নতুন পালা
  12. নবম দিনের নৌকার টিকিট
  13. দরজার ভেতর এক ডাঁটি পেঁয়াজপাতা
  14. রাতে জানলাটা কে বন্ধ করবে
  15. সেলাই খুলে শেষ না-করা দুই ছি কাপড়
  16. নৌকা ভাড়া দেওয়ার পনেরো দিন
  17. খাটের একটি তক্তার শব্দ
  18. হাতার ঘের আরেকবার খোলা
  19. চতুর্থ মাসের জোয়ার
  20. মঞ্চের নিচ থেকে দেখা গোটা এক অঙ্ক
  21. দ্বিতীয় বেলার খাওয়া লানথিংয়ে
  22. ছোট জুতোর দাম
  23. পর্দার পেছন দিয়ে হাওয়া যায়
  24. মন্দিরের আসর জলের ধারে সরল
  25. বাতিল হয়ে যাওয়া একটি পালা
  26. মানুষকে ধরে রাখার ফোঁড়
  27. নৌকার গলুইয়ে দুটো ফলক
  28. বাচ্চাটা কি সঙ্গে যাবে
  29. সেই নৌকার টিকিট নেবে না
  30. গরমে পুরোনো নাটকের নতুন মহড়া
  31. দেখে তবেই জবাব
  32. পোশাকটা মানুষের হাতে তুলে দেওয়া
  33. বাতির আলমারির একটি পাল্লা খোলা থাক
  34. আরেকবার নদী পার
  35. শরতের পালার শেষ সুতো
  36. বাতি সারা রাত জ্বালিয়ে রাখতে হয় না

মন্তব্যের বিভাগ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

← বইয়ের তাকে ফিরে যান, পরের গল্পটি পড়ুন

আপনার থিম বাছুন

আপনার থিম পুরো সাইটে প্রযোজ্য হবে।