প্রাচীন পটভূমিতে বাণিজ্যপথ ও পুনর্মিলনের দীর্ঘ উপন্যাস
আগে-পরে ছাড়ে যে নৌকাগুলো
কু উজি · AI-সৃষ্ট রচনা · 7966 অক্ষর · প্রায় 8 মিনিট
সপ্তম মাসের তিন তারিখে লু ইয়ান ষষ্ঠ মাসের চারশো বিশ ওয়েন মজুরি তুলে আনল।
দুই তারিখ রাতে সে ইউয়েপু পৌঁছেছিল, ঘুমিয়েছিল বাণিজ্যঘরের পাশের পুরোনো ঘরে। ভোরে জানলার বাইরে সাদা দেয়ালটা ঝলমল করছিল, পাতলা খাতাটা যেখানে ঝুলত, সেই পেরেকটাও এখনও আছে। মাসমাইনের তালিকায় মাল তোলার বন্দোবস্তের বাড়তি কাজের আশি ওয়েন আর নেই, সে আগেই জানত। তবু হাতে নিয়ে গুনতে গুনতে শেষে একবার না থেমে পারল না, যেন ওইটুকু যে ভার থাকার কথা ছিল, তা সত্যিই নেই বলে মানতে হলে হাতের তালু দিয়ে আরেকবার পরখ করতে হবে।
ফেই শাও পাশেই ছিল, বগলের নিচে এক জোড়া নতুন বালিশ। দুটো ওয়াড়ের একটা গাঢ়, অন্যটা হালকা। সেলাইয়ের ফুল বেশি নেই, তবে নীল পাড়টা খুব সরু, আর একসঙ্গে বাঁধার পর বালিশ দুটো দেখতে যতটা লাগে তার চেয়েও ফোলা। লু ইয়ান দুবার দেখে জিজ্ঞেস করল, বাসা বদলাচ্ছ? ফেই শাও বলল, বোনের বিয়ে। বাড়ি থেকে আগেই পাঠাতে বলেছিল, সে রাজিও হয়েছিল, কিন্তু রোজকার ব্যস্ততায় আজ পর্যন্ত দেরি। এবারও না পাঠালে বিয়ের সময় বোনকে মাথার নিচে ইট দিতে হবে।
লু ইয়ান হেসে জিজ্ঞেস করল, সব জায়গা কি আগেই বরাদ্দ হয়ে যায়নি? ফেই শাও বালিশ দুটো টেবিলের ধারে নামিয়ে বলল, সে জন্যই তো জিজ্ঞেস করতে এসেছে, কোনো মালিকের সঙ্গে একবার কথা বলে দেখা যায় কি না। নিজে থেকে কারও মাল সরাবে না, তবে বিয়ে পেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত এই জোড়া বুকে জড়িয়ে দাঁড়িয়েও থাকতে চায় না। বলতে বলতে নরম তুলোর ওপর চাপড় দিল। নিজেরই আগে হাসি পেল। এতকাল নতুন নৌকার খোপের খসড়া তালিকা সামলায় যে লোক, কদিন ধরে দুটো বালিশ তার মাথাটাই এমন ঠাসা করে রেখেছে যে স্পষ্ট করে ভাবতে পারছে না।
এবার উজানের নৌকা পঞ্চম দিনে ছাড়বে, সপ্তমীর রাতে ছেংঝৌ পৌঁছতে পারবে। অষ্টম দিনেই বোনের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেওয়া যাবে, নবমীর বিয়ের দিনের আগেই। পরের নৌকা অষ্টম দিনে ছেড়ে দশমীর রাতে পৌঁছবে, ততক্ষণে দেরি হয়ে যাবে। লু ইয়ান পাশে বসে আগের তালিকাটা দেখছিল, শুধু মালের নামগুলো পড়ল, হাত বাড়িয়ে কিছু কাটাকুটি করল না। তাকে ওভাবে ঠায় বসে থাকতে দেখে ফেই শাও না বলে পারল না, আদালতের এজলাসে বিচার বসিয়েছে এমন করে দেখার দরকার নেই, সে এখন কেবল এমন এক ভাই, যে বোনের বকুনি খেতে ভয় পাচ্ছে।
“তাহলে তানদের গিয়ে জিজ্ঞেস করো।” লু ইয়ান বলল, “আমার দিকে তাকিয়ে থাকলে বালিশ ছোট হবে না।”
ফেই শাও রাগে হেসে ফেলল। বালিশ দুটো বুকে তুলে সত্যিই বেরিয়ে গেল। তাকটা আগে তানদের কাগজের মালের জন্য রাখা ছিল। এবারে ছাংগানে পৌঁছে মাল শুধু তাদের নিজেদের দোকানে যাবে। আগের চুক্তি অনুযায়ী বারোর আগে ব্যবহার করতে পারলেই চলবে, হাতে কয়েক দিন ছিল। কিন্তু কাগজের দোকান দুই দফায় মাল নিতে রাজি কি না, কিছু মাল পরের নৌকা পর্যন্ত পিছোতে দেবে কি না, সেটা তাদেরই বলতে হবে। লু ইয়ান তার সঙ্গে দোকানের বাইরে গেল। তান তখন উবু হয়ে বাক্সভর্তি সদ্য কাটা পুস্তিকার পাতা গুনছিলেন। বালিশ দেখে প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন, নতুন বউয়ের জন্য কি না। ফেই শাও বলল, হ্যাঁ। সচরাচর তার মুখে যত কথা জোগায়, এবার তত জোগাল না।
দোকানদার তান শুনে ঠাট্টা করলেন না। বললেন, বড় প্যাকেটটা পরের নৌকায় যেতে পারে, আপাতত তাঁর দোকানে মজুত আছে। শুধু এই ছোট বাক্সটা মেয়েকে কথা দিয়েছেন, একই দিনে পৌঁছানো রঙিন কাগজের সঙ্গে মিলিয়ে একটা পুস্তিকা বানাবে, এটাও পরে যাক চান না। উঠে দাঁড়িয়ে দুজনকে দেখালেন, বাক্সটা বড় নয়, বালিশের সঙ্গে শুকনো, স্থির জায়গায় রাখা যাবে, আর বড় কাগজগুলো আট তারিখের নৌকায় ভাগ করে দেওয়া যাবে। তবে আলাদা করে নিতে গেলে আরেকবার যেতে হবে, মজুরি আঠারো ওয়েন। তিনি ছাড় দিতে রাজি বলে দোকানের কর্মচারীকে বিনা মজুরিতে খাটানো চলে না।
ফেই শাও বলল, এই আঠারো সে দেবে, আর কোথায় কী লিখতে হবে জিজ্ঞেস করল। এত তাড়াতাড়ি বলল যে দোকানদার তান উল্টে মাথা তুলে বললেন, আগে অত তাড়া কোরো না, ছোট বাক্সটা সত্যিই চাপে নষ্ট হলে বড় কাগজের দরে তিনি ক্ষতি মেনে নেবেন না। পাশে লু ইয়ান হাসি চেপে ছিল। ফেই শাওও নিজের তাড়াটা টের পেয়েছে দেখে সে হাত বাড়িয়ে বালিশটা উল্টে দিল, যাতে মোটা দড়ি নীল পাড়ে চেপে না বসে। দুজনের আলাদা করে মাল তোলার কথা সত্যিই শেষ হলে তবেই আবার বালিশ তুলল।
কারবারে ফিরে মালিক নিজে যে নতুন ব্যবস্থা মেনে নিয়েছেন, সেই অনুযায়ী ওরা দুই নৌকার তালিকা আবার লিখল। ওয়েন ইউশেংও একবার দেখলেন। ছোট বাক্স আর আগের রঙিন কাগজ পাঁচ তারিখেই, বড় কাগজ আট তারিখে। কর্মচারীর এক কথার আলোচনায় ব্যবহারের জন্য কথা দেওয়া শেষ তারিখটা বদলে গেল না। ফেই শাও নিজের টাকা থেকে আঠারো ওয়েন গুনে আলাদা করে লেখা বাড়তি বহন খরচে রাখল। বিড়বিড় করে বলল, বোন যদি জানে বালিশ দুটো এত টাকা খসাতে পারে, হাসতে হাসতে নতুন ঘরের কড়িকাঠ দুলিয়ে দেবে।
লু ইয়ান বলল, কথাটা বোনকে বলতেই পারে। ফেই শাও সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে আড়চোখে চেয়ে বলল, বলার পর বোন যদি প্রথমেই জবাব দেয় যে সে তো গোড়া থেকেই তাড়াতাড়ি আনতে বলেছিল, তখন কী করবে? লু ইয়ান আর হাসি চাপতে পারল না। ফেই শাওও হাসল, তারপর ঘুরে বাইরের দিকের পুঁটলিটা আবার চেপে শক্ত করল। তবে হাসিতে মন হালকা হয়েছে বলে ওই আঠারো ওয়েন আবার গদির যৌথ বাক্সের দিকে ঠেলে দিল না।
পাঁচ তারিখে মাল নৌকায় উঠল। বালিশ দুটো আলাদা করে পরিষ্কার কাপড়ে মোড়া, তার ওপর সুরক্ষার জন্য তেলমাখা কাগজ। তানদের ছোট বাক্সটা এমন পাশে রাখা হলো যেখানে চাপ পড়বে না। লু ইয়ান গুনতে সাহায্য করছিল। কাঠের বাক্সের ধারে সরু একটা রেখা হাতে ঠেকতেই মনে পড়ল, ইয়াও জিয়া ছোট বাঁশিটা পেয়েও তাকে আগে বাজিয়ে দেখতে দেয়নি। আপনিই ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল। ফেই শাও জিজ্ঞেস করল, কাকে দেখে হাসছ? বলল, কাউকে না। ফেই শাও স্পষ্টতই বিশ্বাস করল না, মাঝি দড়ি ছাড়তে বললে তবেই দড়ি জড়িয়ে তীরে সরে গেল।
নৌকা চলে গেলে আগের তাকটার জায়গায় কয়েক টুকরো খড়কুটো পড়ে রইল। লু ইয়ান বাঁশের ঝাঁটা দিয়ে সাফ করল। ফেই শাও সঙ্গে সঙ্গে গেল না, খানিক জল দেখে বলল, এবার তারও সত্যিই মনে হয়েছিল, কাগজগুলো তো কয়েক দিন পর কাজে লাগবে, আগে বালিশ ঢুকিয়ে দিলে আর ফিরে এসে লোকজনকে বললে কোনো না কোনোভাবে হয়ে যাবে। এত নিচু গলায় বলল যে মনে হলো না কথাটা শুনিয়ে লু ইয়ানের কাছ থেকে বিশেষ কোনো জবাব চায়। খালি হয়ে যাওয়া তাকের ধারে একবার টোকা মেরে আবার হাত সরিয়ে নিল।
লু ইয়ান ব্রাশটা হাতে ধরে জিজ্ঞেস করল, পরে সে সরাসরি ওগুলো ঢুকিয়ে দিল না কেন। ফেই শাও বলল, ভয় হয়েছিল। কাউকে কিছু না জিজ্ঞেস করে রাখলে তার বোনের ওই দুটোও তখনকার ইয়াওদের বারোটা পাত্র হয়ে দাঁড়াবে, সেই ভয়। বলেই আবার অস্থির হয়ে লু ইয়ানকে বলল, হেসো না। নৌকায় বালিশ দুটো ঠিকমতো বসেনি ভেবে এখনো ছুটে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে, আর একটু ভালো করে সরানো যায় কি না। লু ইয়ান তাকে নিয়ে হাসল না। হাত বাড়িয়ে খালি কাঠের খাঁচাটা তুলে এনে বলল, তখন তারও খুব ইচ্ছে করেছিল শুধু একটা জিনিস আগলে রাখতে, বাকিগুলো আপাতত চোখের আড়ালে থাকুক।
ফেই শাও ‘হুঁ’ বলল। খানিক পর আবার বলল, চতুর্থ মাসের সেই রাতে সে পাশেই ছিল। তারিখ বদলের কথা দেখেনি বলে লিখেছিল, তবু তার সঙ্গে খোলে নেমে মাল সরিয়েছে। এখন সে নতুন তালিকা হাতে লোকের স্বীকৃতি নিচ্ছে বলে সবাই ধরে নিয়েছে, সে বরাবরই লু ইয়ানের চেয়ে ভালো বুঝত। শুনতে শুনতে তার যেন হাত দুটো রাখার জায়গাও থাকছে না। কথা শেষ করে বুকের কাছে খালি জামাটা একটু টানল। একটু আগে বালিশ জড়িয়ে ধরার দুটো ভাঁজ তখনো সেখানে। যেভাবেই দেখা হোক, মনে হয় যেন সে একবার বোনের বিছানা পেতে দিয়েছে।
লু ইয়ান বলল, তাহলে ওদের ওভাবে বলতে দিয়ো না। ফেই শাও আড়চোখে জিজ্ঞেস করল, তুমি নিজে পারতে? সে মাথা নেড়ে বলল, সেও পারত না। দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল। নদীর বুকে একটা কাঠ ভেসে যাচ্ছিল, পাথরের ধারে ধাক্কা খেয়ে আবার ঘুরে সরে গেল। কেউই অন্যজনের হয়ে চতুর্থ মাসের সব কিছুর আগাম বিচার করে দিল না। খানিক পরে ফেই শাও খেতে ডাকল। বালিশ এখন নৌকায় উঠেছে বলে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেও দুদিন এক লোকমা না গিলে থাকতে পারে না।
মাসের সাত তারিখ সন্ধ্যায় ছোট বাক্স আর বালিশ পৌঁছল। পাওয়ার খবর সেই রাতেই উড়ে আসেনি। আট তারিখে ভাটির নৌকায় পাঠানো হলো, নয় তারিখ সন্ধ্যায় তবেই আড়তে এল। ফেই শাও বোনের হাতের লেখা দেখেই প্রথমে জিজ্ঞেস করল, সে গাল দিয়েছে কি না। খুলে দেখল, লিখেছে নীল পাড়টা সুন্দর। ভাই যেন মাংস খাওয়ার জন্যও নিজের কাছে কিছু টাকা রাখে, আবার যেন গোটা মাসের মজুরি দিয়ে এমন কিছু কিনে না ফেলে, যা দেখতে বড় আর মাথা রাখলে শক্ত। শেষে আরও জিজ্ঞেস করেছে, পুঁটলি বাঁধতে সাহায্য করা লু দাদা বিয়ের আনন্দে এক বাটি নুডলস খেতে আসার কথা মনে রেখেছে তো?
ফেই শাও পড়ে এমন হাসল যে কান দুটো পর্যন্ত লাল হয়ে গেল। বলল, এটাকে বকা না বললে কী হবে, শুধু অন্যভাবে বকেছে। পাশে থেকে লু ইয়ান দেখল, সে কত ধীরে কাগজটা ভাঁজ করছে। নীল পাড়ের বালিশ ততক্ষণে আরেকজনের বিছানার পাশে পৌঁছে গেছে। এমনকি একজন ধেড়ে পুরুষও ‘দেখতে সুন্দর’ লেখা একটা লাইনের দিকে চেয়ে থেকে অনেকক্ষণ সেটা তুলে রাখতে পারে না। ভাবতেই লু ইয়ানের হঠাৎ নিজের ওপর রাগ হলো। ইয়াও চিয়ার ছবিটার জবাব সে কখনও মন দিয়ে দেয়নি, যেন সে হেসেছে বলেই নদীর ওপার থেকে ইয়াও চিয়া তা জেনে যাবে।
এগারো তারিখে রাতের খাওয়ার পর সে কাগজ নিল। বাঁশি শেখা হয়েছে কি না জিজ্ঞেস করতে গিয়ে অর্ধেক লিখে বদলাল; পরের বার শুনবে তো বলেইছে, নদীর ওপার থেকে আগে একবার পরীক্ষা নেওয়ার দরকার নেই। শেষে জানাল, ফেই শাও বালিশ উপহার দিয়েছে, তার বোন বলেছে মাসের উপার্জনের মায়া নেই, আর সে এখন বালিশের ওয়াড়ের নীল পাড়ও একটু চিনতে পারে। লিখে তখনও মনে হলো, এ যেন তার হাতে পাঠানোর মতো কথা নয়। কিছুক্ষণ রেখে নিজেই হাসল, কালিতে কলম ডুবিয়ে পাশে কলসির মতো দেখতে দুটো বালিশ আঁকল। নীল পাড় আঁকতে পারল না, তাই লিখে দেখিয়ে দিল।
আরেক লাইনে লিখল, একুশে ছেংঝৌ ফিরবে। এবার নতুন ঝুড়িগুলো মিলিয়ে দেখার কাজ আছে। তার মধ্যে কোনো সন্ধ্যায় ইয়াও জিয়ার ফুরসত হলে আবার তার সঙ্গে নদীর মোহনার দিকে হাঁটতে চায়। নতুন মালের জায়গার কথা এর সঙ্গে এক কাগজে লিখল না। পাতলা হিসাবখাতাটা অন্য জায়গায় যাবে, এই ছোট চিঠি শুধু ইয়াওয়ের দোকানের জন্য। বারো তারিখে উজানের নৌকা ছাড়বে, সবচেয়ে তাড়াতাড়ি চৌদ্দর রাতে পৌঁছবে। চিঠি দেওয়ার সময় কোণে সরু একটা কালির বিন্দু রয়ে গিয়েছিল। দোকানদারের ছেলেমেয়ে সেটা দেখিয়ে দিলে সে দেখে বলল, থাক, আর ঘষলেই তৃতীয় বালিশ হয়ে যাবে।
দুপুর গড়িয়ে সে বাবা-মায়ের বাড়ি ফিরল। মা দিদির দেওয়া পুরোনো খোঁপার কাঁটাটার গা থেকে নরম কাপড় খুলছিলেন। জানতে চাইলেন, এই কুৎসিত দুটো ডেলা কে এঁকেছে। আসলে গত রাতেই বাড়িতে সে একবার এঁকে দেখেছিল, বাতিল কাগজটা সবজির ঝুড়ির পাশে রেখেছিল, আজ সন্ধ্যাতেও সেটা দিব্যি মায়ের হাতে। লু ইয়ান হাত বাড়াল, লিন ছিয়েন ফেরত দিলেন না। বললেন, দেখতে খারাপ তো বলিনি, শুধু আন্দাজ করতে চাই বালিশ না পুঁটলি। পেছনে লু জাই শুনে সঙ্গে সঙ্গে বললেন, গতবার কাঠের বাঁদরটা তিনি আগে আন্দাজ করেছিলেন, এবার তাঁর পালা, ছেলেকে নিয়ে ঠাট্টা করতে করতে ওর রাগ করার শক্তিটুকুও শেষ করে দিয়ো না।
লু ইয়ান দরজায় দাঁড়িয়ে শেষে এমন হাসল যে আর কোনো তর্কই করল না। মা কাগজটা ফিরিয়ে দিয়ে নিজের বাটি আনতে গেলেন, বাবা বাঁ হাত বাড়িয়ে জানালাটা ঠেলে খুললেন, গোল করে ঘষা পুরোনো ছিটকিনিটা মসৃণভাবে সরল। সন্ধ্যার বাতাস আস্তে ঘরে ঢুকল, বাতিল কাগজটার ধার আবার উড়ল। এখনও ভাত বাড়া হয়নি যে বাটিতে, সেটা দিয়ে সে আলতো করে কাগজটা চাপা দিল। হঠাৎ মনে হলো, পরের তিন দিনের উজানযাত্রা যদি আরেকটু তাড়াতাড়ি তাকে ইয়াও জিয়ার হালকা রঙের চুলের ফিতাটার সামনে এনে দেয়।
· এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ·
এই বইটি AI-এর সহায়তায় মৌলিকভাবে রচিত, লি বাই-এর 《长干行二首》 (ছাংগান গীতি: দুটি কবিতা) এবং এই সাইটের মূল ছোটগল্প 《青梅旧账》 (কাঁচা প্লামের পুরোনো হিসাব) অবলম্বনে বিস্তৃত হয়েছে। চরিত্র, বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠান, দাম, ভূগোল ও বর্ষপঞ্জি সবই কাল্পনিক; পুরোনো দেনা যাচাই করে মেটানো, কারিগরি ও শ্রমকে নতুন করে স্বীকৃতি দেওয়া, এবং প্রাপ্তবয়সে পারস্পরিক যোগাযোগের শর্ত নতুন করে স্থির করার মূল ভাব অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে, এটি কবির জীবনী নয়।
মন্তব্যের বিভাগ
মন্তব্য লোড হচ্ছে…
কিছু বলতে চান?মন্তব্য করতে লগইন করুন →