মূল বিষয়বস্তুতে যান

CooLWJ-এ খুঁজুন

选择搜索范围,输入关键词后按回车。

ভাষা

হাতে এক খণ্ড বই

প্রাচীন আবহে সমাজজীবনের দীর্ঘ উপন্যাস

চায়ের ছাউনির দিনগুলো এবার তার নিজের

কু উজি · AI-সৃষ্ট রচনা · 8435 অক্ষর · প্রায় 9 মিনিট

চতুর্থ মাসের দুই তারিখে লিউ লান চায়ের ছাউনির দরজার বাইরের পুরোনো মাদুরটা পুড়িয়ে দিলেন। মাদুর পানিতে ভিজেছিল, তাতে কাঠের কুচিও আটকে ছিল। কয়েক দিন রোদে দিয়েও ভ্যাপসা গন্ধ যায়নি। খোলা জায়গায় নিয়ে আগে চারপাশে এক পাক পানি ছিটিয়ে তবেই আগুন ধরালেন। আগুন তেমন জোরালো নয়, ধোঁয়া ঘন। চৌ ছিয়াওয়ের বাড়ির বাচ্চাটা দূর থেকে দেখে চেঁচাল, ছাউনিতে আবার আগুন লেগেছে। তিনি বকে বললেন, আবার ছাড়া আর কিছু বলতে পারিস না, একমুঠো সবজির পাতার ডাঁটা দিয়ে তার মুখ আটকে আগে ভালো করে দেখতে বললেন।

বাইরের ছাউনি ইতিমধ্যেই খালি করা হয়েছে। শু শেন আগের নতুন দরজার বেঁচে যাওয়া তক্তা দিয়ে একটি নিচু মঞ্চ বানালেন, তলার চৌকো কাঠ শুকনো জায়গায় সরিয়ে স্থির করলেন, বর্ষার রাতের মতো শুধু সাময়িক পা রাখার ঠেকনা নয়। পাশে দুটো পুরোনো বেঞ্চ যোগ হলো, একটির পা আধ ছুন ছোট, অন্য প্রান্ত থেকে কাঠ চেঁছে সমান করলেন। লিউ লান পরীক্ষা করে ফাটা কোণটা দেয়ালের দিকে, সমান দিকটা অতিথিদের দিকে রাখলেন; কাঠ ভালো বলেই তাকে ছাউনির মাঝখান দখল করতে দিতে রাজি হলেন না।

ভেতরের উনুনটা তৃতীয় মাসের চব্বিশ তারিখে রাজমিস্ত্রি ডেকে বদলানো হয়েছিল। উনুনের মুখের ধার চওড়া করা হয়েছে, ধোঁয়ার জন্য আলাদা একটা পথ পরিষ্কার করা হয়েছে, নতুন মাটির প্রলেপটাও যথেষ্ট শুকিয়েছে। লোকটা কয়েক দশক ধরে উনুন বানায়, তা শিউয়ের হাঁড়ির বেড় একবার দেখেই বুঝেছিল ওপরে কাঠের মাচা দিয়ে উঁচু করা চলবে না। লিউ লান চায়ের টাকা পুরোনো সঞ্চয়ের সঙ্গে মিলিয়ে মজুরি মিটিয়েছেন। তাই বাড়ির ফাটা জালাটা আপাতত বদলানো হবে না। শু শেন হাতের কাছে সাহায্য করার মতো আরেকজনকে খুঁজে আনবে বলে তিনি বসে থাকেননি।

দা শিউ হাঁড়ি বসিয়ে দেখতে এসে প্রথমে চুলোর প্রশংসা করল না। আধ ডোঙা পানি তুলে তাতে ঢেলে শুনল পানির পিঠ স্থির আছে কি না। হাঁড়িটা বসে গেল, চারপাশে দুলল না। সে আবার দু টুকরো নতুন কাঠ এনে পরীক্ষা করল ধোঁয়া পেছন দিকে যায় কি না। লিউ লান দরজার ধারে দাঁড়িয়ে প্রথমে বলতে চেয়েছিলেন মাটির কারিগরের হাত খুব পাকা। পরে শুধু জানালাটা ঠেলে খুলে দিলেন, তাকে নিজের মতো একে একে সব পরীক্ষা করতে দিলেন।

এত দিন পরেও দুজনের পুরোনো ক্ষোভ পুরো কাটেনি। তা শিউ হাঁড়ির পায়াটা তুলতে গিয়ে এখনও মনে করতে পারল দ্বিতীয় মাসের সতেরো তারিখের সেই সকালটা। তার সবজির পিঠায় কাঠের কুচি লেগেছিল, চেনা খদ্দেররা তার দোকান ছেড়ে অন্যের পিঠা কিনতে চলে গিয়েছিল। লিউ লান হাঁড়িটার দিকে চেয়ে ভাবল বলবে, তারও ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ঘুরে গিয়ে দুবাটি ঠান্ডা জল আনল, আগে অন্যজনকে খেতে দিল।

তারা আগের মতো সারাদিনের কারবার আবার শুরু করল না। তা শিউ দক্ষিণ শহরের ছোট দোকানটা ছাড়তে পারে না, পাঁচ দিনে একবার আসতে রাজি হল। সকালে নুডলসের ঝোল বেচবে, দুপুরের পরের ওয়েই প্রহরের আগেই চলে যাবে, বাড়িতে কিছু থাকলে আগের দিন খবর পাঠাবে। লিউ লান নিজে চা বেচবে, দুপুরের পরে শুধু ঠান্ডা খাওয়া যায় এমন দু রকম জিনিস রাখবে, ছাউনিও একটু আগে বন্ধ করবে। কেউ দেরি করে পথে বেরিয়ে দরজায় এসে পড়লে খানিক হাওয়া এড়িয়ে বসতে পারবে, গরম ভাত পাবে এমন কথা নেই। পুরোনো চেনাজানার দোহাই দিয়ে আর উনুন জ্বালিয়ে রাখতে বাধ্য করা চলবে না।

প্রথম দিন দা শিউ বাঁশকোঁড়লের ঝোল রাঁধল। হাঁড়িতে মাংস বেশি ছিল না, পেঁয়াজপাতা মিহি করে কাটা। ঝোল ফুটতেই বাঁশকোঁড়লের গন্ধ রাস্তার মোড় পর্যন্ত ভেসে গেল। এক গরুর গাড়ির চালক যাচ্ছিল, গন্ধ পেয়ে নেমে বসল, বসেই জিজ্ঞেস করল মাংস কতটা। দা শিউ হাতার তলাটা তাকে দেখিয়ে হেসে বলল, বেশি মাংস খেতে হলে আরও টাকা দিতে হবে। লোকটা টাকার থলি ছুঁয়ে দেখে এক বাটিই নিল, শেষে আধখানা পিঠা ডুবিয়ে ঝোলটুকুও চেঁছেপুছে খেল।

লোকটা গরুর বাঁধন শক্ত করেনি। গরু জানালার পাশের ঝুড়ির সরষেশাক শুঁকতে মাথা বাড়িয়ে বাইরের এক মুঠো খেয়ে ফেলল, মুখের কোণে তখনো একটা পাতা ঝুলছিল। লোকটা খাওয়ার কাঠি তুলে তাড়াল। গরু মাথা নিচু করে গুঁতো মেরে দড়ি সরাতে গিয়ে মালিককেই টেনে টলিয়ে দিল। তা শিউ এক হাতে হাঁড়ি আগলে অন্য হাতে পেছনের গাছটা দেখাল। লিউ লান তাড়াতাড়ি সবজির ঝুড়ি তুলে ঘরে নিয়ে বললেন, মানুষটারই পেট ভরেনি, গরুটা তার আগেই মুফতে খাওয়ার রাস্তা চিনে ফেলেছে। লোকটা মুখ লাল করে ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই ওয়েন দিল। তিনি নিলেন, তারপর বুড়ো পাতাগুলো এক মুঠো গরুকে খেতে দিয়ে বললেন, পরের বার আগে এগুলোই বেছে নিস।

পরে তা শিউ নিজের জন্য তুলে রাখা এক টুকরো মাংস ভাজলেন। আঁচ বেশি ছিল না, কিনারাগুলো সামান্য পুড়ে হলদে হয়ে এল। লিউ লান বললেন তাঁকে দিতে হবে না। তা শিউ মাংসটা উলটে দিয়ে বললেন, নিজের জন্যই তো ভাজছি, সকাল থেকে এত খেটেছি, নিজের যা খেতে ইচ্ছে করে তারও এক লোকমা খাওয়া চাই। শাকের পাতায় মুড়ে তিনি এক কামড় দিলেন, চর্বির সুবাস ছড়িয়ে পড়ল। দেখে লিউ লানেরও লোভ হলো, তিনিও ছোট এক টুকরো কড়াইয়ে দিলেন। দুজনে উনুনের ধারে পাশাপাশি বসে নিজেরটা খেলেন, খদ্দের টানার নমুনা হিসেবে তুলে রাখলেন না।

গরুর গাড়ি হাঁকানো লোকটাও স্যুপটুকু শেষ করল। লিউ লানের মনে একটু ভরসা এল, তবু আগেভাগে ধরে নিল না যে বেচাকেনা জমেছে। দুপুরের পর দুজনে গুনল কত বাটি বিক্রি হয়েছে। সাড়ে তিন বাটি স্যুপ বাকি। দাশিউ এক কলসি শহরে নিয়ে গেল, বাকিটা লিউ লান নিজে খাবে। আজ আবহাওয়া ভালো বলে খদ্দেরের আশায় আরেক হাঁড়ি চড়াল না। গুছিয়ে নেওয়ার সময় রাস্তায় গাড়ির আওয়াজ শুনে এখনও তাদের মন নড়ে উঠল, তবে উনুনে শুধু আগের আঁচটুকুই রইল। আওয়াজ শোনামাত্র কাঠ দিতে আর তারা ছুটল না।

দুপুরের পর লিউ থিং এক থলি চাল নিয়ে এল, পেছনে তার মেয়ে। মেয়েটার বেণি সত্যিই একটা মোটা, একটা সরু, সরুটা আকাশের দিকে খাড়া হয়ে আছে। দেখে দা শিউ হেসে জিজ্ঞেস করল, কে বেঁধে দিয়েছে। লিউ থিং একবার কেশে বলল, মেয়েটার নিজেরই এমন পছন্দ। মেয়ে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নালিশ করল, বাবা বেঁধে দিয়েছে, এমন টেনেছে যে তিনটে চুল উঠে গেছে, সে নিজে গুনেছে।

লিউ লান হাত বাড়িয়ে বেণি খুলে দিতে গেল। মেয়েটা স্থির হয়ে দাঁড়াতেই পারছে না, বারবার হাঁড়ির দিকে দেখতে চায়। মায়ের মন ভালো দেখে লিউ থিং জিজ্ঞেস করল, কাল শহরে এসে তার বউয়ের হয়ে দুবেলার ভাত রেঁধে দিতে পারবে কি না। বউয়ের কাশি সেরেছে, সে বাপের বাড়িতে আত্মীয়দের দেখতে যাবে, বাড়িতে মেয়েকে দেখার কেউ নেই। লিউ লানের মুখ থেকে প্রথমেই ‘হ্যাঁ’ বেরিয়ে গেল। তারপর চুলের ফিতে হাতে ধরে হঠাৎ থেমে বলল, কাল তাকে চা কিনতে যেতে হবে, দুপুরের পরেই পৌঁছতে পারবে, তার আগে ভাতটা সে নিজেই রাঁধুক।

“আমার ভাজা তরকারি ওদের নোনতা লাগে।” লিউ থিং বলল। পাশে তা শিউ ফিক করে হেসে বলল, আধ চিমটি নুন কম দাও। বাবার রান্না খেতে হবে শুনেই বাচ্চাটার মুখ শুকিয়ে গেল। লিউ লান প্রায় কথা বদলে ফেলতে যাচ্ছিল। সে দুই বেণি আবার সমান করে ভাগ করল, বাচ্চার কপালে হালকা টোকা দিয়ে বলল, বাবা ভালো রাঁধতে না পারলে আগে পিঠা খেয়ো, দুপুরের পর দিদিমা তোমার জন্য একটা মিষ্টি পিঠা আনবে।

মেয়েটা জিজ্ঞেস করল, ঠাকুমার সঙ্গে ছাউনিতে থাকতে পারবে কি না। লিউ লান বললেন, আজ কিছুক্ষণ বসতে পারিস, অন্ধকারের আগে বাড়ি ফিরতে হবে। উনুনের আঁচে পোড়ানো একটা ছোট কচু বার করে খোসা ছাড়িয়ে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করলেন। অর্ধেক মেয়েটাকে দিলেন, অর্ধেক নিজে খেলেন। মাকেও খেতে দেখে লিউ থিং হেসে বলল, এখন আর সবটা বাচ্চার মুখে গুঁজে দাও না দেখছি। তিনি চোখ পাকিয়ে বললেন, আগে দরজার কাছে চালের বস্তাটা শুকনো জায়গায় নিয়ে রাখ, জল যাওয়ার পথে ফেলে রাখিস না।

চান্দ্রমাসের তৃতীয় দিনে আ সুই ছাউনিতে এল, দাশিউকে দেবে বলা আধ কলসি মুলো সঙ্গে নিয়ে। দাশিউ আজ নেই। লিউ লান বলল, ওটা রেখে যাও, দুদিন পর এসে নিয়ে যেয়ো। আ সুই কলসিটা ভেতরে রাখল। উনুনের পাশে খালি হাতাটা তুলে নিল না, কত দিন তার হয়ে পাহারা দেবে তাও জিজ্ঞেস করল না। সোজা নিচু মাচার কাছে গিয়ে দরজা আটকায় না এমন জায়গা বেছে বসল। সদ্য চাঁছা ধারটায় একবার হাত বুলিয়ে দেখল।

লিউ লান তাকে চা ঢেলে দিতে দিতে কথার ফাঁকে জিজ্ঞেস করল, ওই ছয়শো ওয়েনের জন্য মায়া হয় কি না। মুখ থেকে কথা বেরোতেই দুজনেই একটু চুপ করল। আ সুই আগে হাসল। বলল, হয়, শুধু ভাবলেই বুকটা আটকে আসে। লিউ লান মাথা নামিয়ে সেও হাসল, বলল, দ্বিতীয় মাসের সতেরো তারিখে তারও বুক আটকে এসেছিল। দুজনে কার বুকের ভার কত বেশি তা মাপতে গেল না। চা গরম ছিল, কারও জন্যই অন্যজনকে তাড়াতাড়ি ওই ভার খুলে দিতে হল না।

আ সুই দেয়ালের পাশে ছোট একটা খাঁচা দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কী আছে তাতে। লিউ লান ভেতর থেকে বৃষ্টির পর কুড়োনো এক মুঠো মাশরুম বের করলেন। ভালো করে বেছেছিলেন, তবু বললেন, চেনে এমন কেউ দেখে দিক, হাঁড়িতে দিতে তাড়া নেই। আ সুই একটার দিকে আঙুল তুলে বললেন ওটা নিশ্চয়ই খাওয়া যায়। আঙুলটা মাঝপথে ফিরিয়ে নিয়ে বললেন, দেখতে তেমনই বটে, তবে আগেও তিনি চিনতে ভুল করেছেন। লিউ লান মাশরুমগুলো খাঁচায় ফিরিয়ে রেখে লোক আসার অপেক্ষা করলেন।

দুপুরের পর পথে যেতে যেতে দুই মহিলা এসে টেবিলটা ধার নিয়ে পুঁটলি আবার বাঁধল। একজন তার নকশা-করা জুতো নিচু মাচার ধারে শুকোতে দিল। আ সুই এক হাত জায়গা ছেড়ে শুনল, শহরের সেতুতে কেউ ডিগবাজি খেতে পারে এমন কাঠের পুতুল বেচে। সেও নিজের দেখা মাটির জালার পালার গল্প বলল। শুকনো শিম ঢেলে পড়ার কথা বলতেই লিউ লান উনুনঘরের দরজা থেকে ঘুরে তাকাল। এমন হাসল যে হাতে চায়ের কেতলিটাও কাত হয়ে গেল।

দুই মহিলা যাত্রীও তাদের হাসিতে যোগ দিল, তারপর যে যার পথে ফিরল। আ সুই টের পেল, ছেলে বা উনুনের আগুনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন কোনো কথা লিউ লানের সঙ্গে এভাবে কত দিন বলেনি। লিউ লান জিজ্ঞেস করল নাটকের ছাউনিটা এখনও আছে কি না। সে বলল, কু ছিনের কাছে শুনেছে ওটা পুবের বাজারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুদিন পর শহরে এলে আগে গিয়ে দেখে নিতে পারে, সোজা নানহুয়াই গলিতে তাকে খুঁজতে আসতে হবে না।

লিউ লান সত্যিই চতুর্থ মাসের পাঁচ তারিখে চা কিনতে শহরে এসে আগে পূর্বের বাজারে গেলেন। সেদিন নাটকের ছাউনিতে অন্য একটা অঙ্ক গাওয়া হচ্ছিল। মাঝখানের প্রেমের অংশটা তিনি তেমন বুঝলেন না, বরং বারবার ভুল টুপি তুলে নেওয়া ভাঁড়টাকেই বেশি পছন্দ হলো। দেখে তবেই আ সুইয়ের কাছে গেলেন। আ সুই এতক্ষণ অপেক্ষা করানোর নালিশ করল না। জানালার নিচের পেঁয়াজপাতা দেখাল। পাতা আরেকটু লম্বা হয়েছে, এক দফা কেটে নুডলসেও দিয়েছে।

আ সুই জিজ্ঞেস করলেন, নাটকে শেষে কে ভুল টুপি নিয়েছিল। লিউ লান বললেন, জেলার কর্মচারী সেজেছিল যে, সে বরের টুপি পরে চলে গেল। আ সুই বিশ্বাস করলেন না, জেলার কর্মচারীর টুপি আর বরের টুপি এক হয় কী করে। দুজনে অনেকক্ষণ তর্ক করে শেষে বুঝলেন, লিউ লান মাঝখানে এক ঠোঙা ভাজা শিম কিনতে গিয়েছিলেন, ফেরার মধ্যে লোকটা চরিত্র বদলে ফেলেছিল। লিউ লানই প্রথমে হাসলেন। আ সুই ঠাট্টা করলেন, চোখে এত ভুল দেখেও প্রেমের পালা দেখতে যাও। লিউ লান আঙুলের ডগা দিয়ে আ সুইয়ের নীল হাতায় খোঁচা দিয়ে বললেন, আর তুমি বুঝি জানো তোমার কোন হাতাটা লম্বা। ফাং শিয়াও দরজার পাশে উবু হয়ে অনেকক্ষণ শুনে জিজ্ঞেস করল, শু কাকাকে দিয়ে দুটো কাঠের টুপি বানানো যাবে কি না। দুজনে তাড়াতাড়ি একসঙ্গে বললেন, যাবে না।

শু শেন সন্ধ্যার আগেই ফিরল। লিউ খুড়ির গলা শুনে ঢোকার মুখে একটু থমকাল। লিউ লান তার দিকে একবার তাকিয়ে বলল, নিচু পাটাতনটা কাজে লাগছে, ফের কোনো খোঁচা উঠে এলে তাকেই ডেকে রন্দা চালাতে বলবে। সে রাজি হল। লিউ লান উঠে মায়ের নীল হাতাটা ধরে দেখল, বলল ডান দিকটা সত্যিই একটু চওড়া হয়েছে। তার হাসি দেখে শু শেনের মুখের কোণও শিথিল হল।

যাওয়ার সময় লিউ লান মূলোর টাকা এনে দিল, দা শিউ পাঠিয়েছে, আধ পাত্রের জন্য আট ওয়েন। আ সুই নিল। পাল্টা উপহার হিসেবে দু ওয়েন গুঁজে দিতে হাত বাড়িয়েও মাঝপথে লিউ লানের কবজি ধরল। পথের ধারে ভাপা পাউরুটির দোকানের নতুন সাইনটা দেখতে বলল। তার মনে হলো, মুখোমুখি দাঁড়িয়ে হাসির একটা কথা বলা, সেই একই কটা পয়সা ঠেলাঠেলি করার চেয়ে তাদের আগেকার দিনের মতো বেশি।

এর পরেও চায়ের ছাউনি কখনও কখনও ফাঁকা থাকত। যে দুদিন বৃষ্টি হল, লিউ লান বাইরে বেঞ্চ পাতলই না, ভেতরে বসে নিজের জন্য বসন্তের একটা জামা সেলাই করল। আ সুইয়ের মতো ধৈর্য তার নেই, ফোঁড়গুলো আঁকাবাঁকা, অথচ গায়ে দিলে বেশ ঢিলেঢালা আর আরাম। পাহাড়ি পথে লোক গেলে শব্দ শুনে মাথা তুলত। কেউ চা চাইলে উঠে বানাত, কেউ না থামলে আবার সেলাই করত। প্রতিবার পায়ের শব্দ শুনে ভাবতে হত না যে এবার তারই খাটার হুকুম এসেছে।

· এই অধ্যায়ের সমাপ্তি ·

এই বই AI-এর সহায়তায় মৌলিকভাবে রচিত, লিউ ছাংছিংয়ের 《逢雪宿芙蓉山主人》 বা ‘তুষারে পড়ে ফুরং পাহাড়ের গৃহস্বামীর বাড়িতে রাতযাপন’ এবং এই সাইটের মূল ছোটগল্প 《雪夜留门》 বা ‘তুষাররাতে খোলা দুয়ার’ অবলম্বনে বিস্তৃত করা হয়েছে। চরিত্র, জেলা শহর, পথ ও কাহিনি সবই থাং যুগের আবহে নির্মিত কাল্পনিক জগতের অংশ; এটি মূল কবিতার অনুবাদ বা কবির জীবনী নয়।

এই বইয়ের সূচিপত্র · ৩৬টি অধ্যায়
  1. দক্ষিণমুখী সেই ঘর
  2. চৌকাঠ অবধি তুষার
  3. তৃতীয় বাটিটি
  4. দরজার পাল্লা পড়ে যাওয়ার আগে
  5. পথের মোড়ে কালো অক্ষর
  6. দুপুরের পর শহরের ফটক
  7. উঠোনে ধার করা আগুন
  8. সমমূল্যের এক দরজা
  9. দুপুরে যে দরজায় কড়া পড়েনি
  10. পথফলকের অন্য পিঠ ঘুরল
  11. সেলাইয়ের ঝুড়ির পাশে এক জোড়া হাত
  12. দক্ষিণের দেয়ালে বরফগলা জল চুঁইয়ে ঢোকে
  13. গাঁয়ে ফেরার আসন
  14. মাপের কাঠিতে চোখ এড়ানো এক দাগ
  15. দরজার নিচে সেই হাত
  16. মা তাঁর হয়ে যে কথা বলেছিলেন
  17. চায়ের ছাউনিতে দরজার কাঠের স্তূপ
  18. যে শর্টকাটে গাড়ি চলে না
  19. কার বাড়ির পেছনের উঠান
  20. এক বাঁক বোঝা, দুই দড়ি
  21. তা শিউ হাঁড়িটা নিয়ে গেল
  22. যে বেঞ্চটায় কেউ বসেনি
  23. পুরোনো বাড়িটা দেওয়ার কথা কে দিয়েছিল
  24. নতুন দরজাটা বৃষ্টিতে রাখা
  25. যে ঘর এখনও ছেড়ে দেওয়া হয়নি
  26. কাঠের কারখানায় রেখে যাওয়া চিরুনি
  27. ফলকে কারও নাম নেই
  28. উষ্ণ ঘর ওষুধ নয়
  29. তুয়ানউ উৎসবের আগের সেই আমন্ত্রণ
  30. সুচের যে ঝুড়িটা বিক্রি হয়নি
  31. চায়ের ছাউনির দিনগুলো এবার তার নিজের
  32. পাহাড়ের সেই কাঠের হিসাব
  33. কার হাত থেকে বাঁক তুলে নেওয়া উচিত
  34. যে হাঁড়ির ভাত আগে ঠান্ডা করে রাখতে হয় না
  35. জীবন্ত মানুষের জন্য দরজা সারানো
  36. সূর্য কতদূর নামল

মন্তব্যের বিভাগ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

← বইয়ের তাকে ফিরে যান, পরের গল্পটি পড়ুন

আপনার থিম বাছুন

আপনার থিম পুরো সাইটে প্রযোজ্য হবে।